যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ৪ একটি নতুন তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার (এডিএইচডি) শুনানোর উর্ধ্বগতি নিয়ে অনুসন্ধান চালাবে। 'দ্য গ্রেট এডিএইচডি মিথ' শীর্ষক এই এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করবেন জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএনএস)-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ম্যাক্স পেম্বারটন।

নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে এডিএইচডি পরীক্ষার জন্য রেফারকৃত রোগীর সংখ্যা বিস্ময়করভাবে ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তথ্যচিত্রটির মূল অনুসন্ধানে থাকছে এই ঊর্ধ্বগতির প্রকৃত কারণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যদিও এডিএইচডি-কে একটি বাস্তব শারীরিক অবস্থা হিসেবে স্বীকার করেন, তবে কেন কারও এটি হয়, সেই প্রশ্নের কোনও পরিষ্কার ধারণা নেই। এই তথ্যচিত্রে খতিয়ে দেখা হবে এটি আসলেই একটি স্নায়বিক-উন্নয়নজনিত জটিলতা, যেখানে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের গঠন ভিন্ন, নাকি স্মার্টফোন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কঠোর শিক্ষাব্যবস্থার মতো আধুনিক পরিবেশ কিছু নির্দিষ্ট আচরণ ও প্রতিক্রিয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

চ্যানেলটি জানিয়েছে, এডিএইচডি-র কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা না থাকা সত্ত্বেও তরুণদের চিকিৎসার প্রাথমিক উপায় হিসেবে মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ প্রয়োগ করাই যথর্থ কিনা, তাও এই অনুষ্ঠানের একটি বড় আলোচ্য বিষয়।

এই প্রকল্পের ঘোষণা দিতে গিয়ে উপস্থাপক পেমবাটর্ন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি লক্ষ করেছেন, এডিএইচডি একটি সতর্ক মূল্যায়নের পর মাঝেমধ্যে করা হতো, সেখান থেকে এটি এখন ক্রমবর্ধমানভাবে চাহিদা ও বিতরণর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই পরিবর্তনের কারণ বুঝতে আগ্রহী হয়েই তথ্যচিত্রটিতে যুক্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, 'এই রোগনির্ণয় চাওয়া মানুষগুলো নিঃসন্দেহে মানসিকভাবে সংগ্রাম করছে— এটি প্রশ্নের বিষয় নয়। ছবিটি প্রশ্ন তোলে, এডিএইচডি কি সত্যই এই সংগ্রামের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা? আমার আশা, আমরা এখান থেকে অনুমতি পাব যে আধুনিক জীবন আমাদের সকলের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আরও ভালো প্রশ্ন করার।'

এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, ডা. পেমবাটর্ন আলোচনার উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞদেরই সম্মুখীন হবেন। পাশাপাশি তিনি একটি তরুণ পরিবারের সঙ্গেও কথা বলবেন, যারা একটি বালকের ক্ষেত্রে জীবনধারার সামগ্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এডিএইচডি-র ওষুধের ব্যবহার বাদ দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে চায়। চ্যানেল ৪ জানিয়েছে, 'দ্য গ্রেট এডিএইচডি মিথ' তথ্যচিত্রটি ২০২৭ সালে প্রিমিয়ার হবে এবং এর লক্ষ্য হচ্ছে পিতা-মাতা ও পেশাজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গিকতা তৈরি করা।