পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন সম্প্রতি এমন একটি বাটন চালু করেছে যা ব্যবহারকারীদের পোস্টে ‘এআই স্লপ’ বলে মনে হলে তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। ‘সিমস লাইক এআই স্লপ’ নামের এই অপশনটি পোস্টের অপশন মেনুতে ক্লিক করলেই দেখা যাবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সেসব পোস্ট রিপোর্ট করতে পারবেন যেগুলো নিম্নমানের বা অতিরিক্ত এআই নির্ভর বলে মনে হয়।
লিংকডইনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা হরি শ্রীনিবাসন এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘স্লপ’ শব্দটির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন এবং সময়ের সাথে সাথে এর অর্থ বদলায়। এই নতুন বাটনটি তাদের মডেলগুলোকে আরও উন্নত করতে এবং ব্যবহারকারীদের ফিড আরও ভালো করতে সাহায্য করবে। কোম্পানিটি তার ‘এনহ্যান্স ইউ পোস্ট’ টুলটি সরিয়ে ফেলছে এবং এর পরিবর্তে এমন একটি ফিচার আনছে যা পোস্টের বানান ও ভাষা পরীক্ষা করে কিন্তু ব্যবহারকারীর নিজস্ব ভাষাশৈলী অপরিবর্তিত রাখে। পাশাপাশি প্রোফাইল ও পেজ যাচাইকরণ প্রক্রিয়াও জোরদার করা হচ্ছে।
বট সনাক্তকরণও জোরদার করেছে লিংকডইন। শ্রীনিবাসনের মতে, কোম্পানিটি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ স্বয়ংক্রিয় স্লপ মন্তব্য প্রচেষ্টা শনাক্ত ও ব্লক করছে। গত কয়েক মাসে মাত্রই তারা ‘বিলিয়ন বিলিয়ন’ অন্যান্য অটোমেশন প্রচেষ্টা (বৃহদায়তনে পোস্টিং, স্লপ) প্রতিরোধ করতে পেরেছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে এআই ব্যবহার সবসময় খারাপ নয়। অনেকে তাদের চিন্তাভাবনা পরিমার্জনের জন্য এআই ব্যবহার করেন। নতুন এই ‘এআই স্লপ’ টুল ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দেবে যখন তাদের পোস্টটি ‘অপ্রামাণিক’ শোনায়।
শ্রীনিবাসন তার পোস্টে বলেন, ‘এআই স্লপ আমাদের সবার জন্য একটি শীর্ষ অগ্রাধিকার। আমরা এ বিষয়ে সত্যিই যত্নশীল।’ লিংকডইনের এই নতুন ফিচারটি এসেছে যখন ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর থেকে অনলাইনে এআই-লিখিত কন্টেন্টের প্রসার বেড়েছে। এআই টেক্সট সনাক্তকরণ টুল প্যাংগ্রামের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, লিংকডইনের দীর্ঘ ফর্মের পোস্টের ৪০% এবং ছোট ফর্মের পোস্টের ৩০% সম্পূর্ণ এআই-জেনারেটেড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এআই-নির্মিত কন্টেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে অন্যান্য কোম্পানিও। স্ন্যাপচ্যাট শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে তারা তার স্পটলাইট ফিচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ এআই-জেনারেটেড ভিডিও আর সুপারিশ করবে না। তবে স্ন্যাপচ্যাটের নিজস্ব এআই ক্রিয়েটিভ টুল ব্যবহার করে সম্পাদিত বা উন্নত ভিডিওগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তবে এসব ভিডিওতে স্বচ্ছতা নির্দেশক থাকবে।
অন্যদিকে মেটা এআই-নির্মিত কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকেছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মিউজ ইমেজ নামের একটি টুল চালু করেছে যা বিভিন্ন রেফারেন্সের ভিত্তিতে এআই-জেনারেটেড ছবি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি মিউজ ভিডিওর প্রিভিউও প্রকাশ করেছে। মিউজ ইমেজ দিয়ে তৈরি ছবিতে ‘কনটেন্ট সিল’ নামের একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্কিং সিস্টেম থাকে যা ছবি ক্রপ, রিসাইজ বা স্ক্রিনশট নিলেও সেটি সনাক্ত করতে পারে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, মিউজ ইমেজ ও মিউজ ভিডিও তাদের প্ল্যাটফর্মে মানুষ যে কন্টেন্ট আবিষ্কার করে তা ‘নাটকীয়ভাবে’ প্রসারিত করবে।




