বান্দরবানের রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত শুক্রবার ও শনিবার—এই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে লেংটং খুমিপাড়ায় তিন শিশু হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে। নিহতরা সবাই ওই দুর্গম পাড়ার বাসিন্দা। এর মধ্যে শুক্রবার দুপুরে দুই শিশু ও শনিবার বিকেলে আরও এক শিশু মারা যায়। স্থানীয় পাড়াপ্রধান শৈলুং খুমি জানান, মৃতদের মধ্যে তাঁর নিজের ছয় বছরের মেয়ে পলি এউং খুমি, তৈসাং খুমির পাঁচ বছরের ছেলে খ্রেতং খুমি এবং প উং খুমির পাঁচ বছর বয়সী পুত্র প্রেইত এউং খুমি রয়েছেন। শেষোক্ত শিশুটি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। গত কয়েকদিন ধরে তাদের সবার শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও চুলকানি ছিল। শৈলুং কার্বারির ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও লেংটংপাড়ায় হামের উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—আংমিথা খুমির মেয়ে খ্রেইপা খুমি (১০), সাংনাই খুমির ছেলে শৈফ্রা খুমি (১৫) ও আ লেম খুমির পুত্র ফ্রেলিং এউং খুমি (১০)। ফলে এই পাড়ায় এখন পর্যন্ত হামে মৃতের সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য বলছে, চলতি মাসে পুরো রুমাতেই হামের উপসর্গে ছয় শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তবে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও রুমা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি। রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়াগুলোতে হামের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালে ১৪ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। লেংটং খুমিপাড়াটি রুমা সদর থেকে বগালেক হয়ে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে কেওক্রাডং পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত। বগালেক থেকে পায়ে হাঁটা পাহাড়ি পথ ছাড়া সেখানে কোনো যানবাহনযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা নেই। মাত্র ২৬টি পরিবারের ওই পাড়ায় বর্তমানে ছয়জন রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। শৈলুংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থাংকু খুমি জানিয়েছেন, পাড়ার মানুষজন অত্যন্ত দরিদ্র এবং চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে তাদের সচেতনতা নগণ্য। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে গাড়ি ভাড়া করে আসা-যাওয়া এবং সেখানে চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অথচ অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা জরুরি। রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা জানান, তাঁর ইউনিয়ন ও গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এই মাসে বিভিন্ন পাড়ায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি লেংটংপাড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখছেন। রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার পাপিয়া দাশ জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় কোনো রোগী মারা যায়নি। গত সপ্তাহে গালেঙ্গ্যায় দুটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছিল। অংলাইপাড়ায় এক শিশুর মৃত্যু হলেও তা হামের কারণে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, লেংটংপাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব ও দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে কোনো তথ্য নেই। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী জানান, রুমায় দুই শিশুর মৃত্যুর খবর তাঁকে জেলা পরিষদ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আরও আক্রান্ত শিশু পাড়ায় থাকার কথা তাঁকে বলা হয়নি। তিনি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।