ভারতের পরীক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে থাকবেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধার ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার রূপকার নন্দন নিলেকানি। একইদিন সরকার সংসদে একটি নতুন বিল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দোষী সাব্যস্তদের সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি জরিমানা ও কঠোর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হবে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ত্রিশ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু বর্তমান সংকট নয়, আগামীর দিকে দৃষ্টি রেখে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় গরমিল সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিস্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত স্থাপনের পূর্ববর্তী ঘোষণার পর এবার সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ ঠেকাতে আইনটি আরও কড়া হতে যাচ্ছে।
মোদির ঘোষণাটি আসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে সপ্তাহব্যাপী চলা তীব্র বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবার ঠিক পরের দিন। তার ভিডিও বার্তায় বিদায়ী মন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য দেখা যায়নি। নয়া দিল্লির সরকারি সূত্র জানায়, এই টাস্কফোর্স ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কাঠামো ও পদ্ধতিতে আমূল সংস্কার এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুপারিশ দেবে।
টাস্কফোর্সের সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) সাবেক চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) প্রাক্তন পরিচালক তপন ডেকা, আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি, সাবেক শিক্ষাসচিব অনিতা কারওয়াল এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অমৃত লাল মিনা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নিয়ে সিজেপি আগামী দিনেই তাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সরকার পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।
বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের দশ বছরারও বেশি সময়ের শাসনামলে এই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিক্ষোভের চাপে পদত্যাগ করলেন। শনিবার পদ ছাড়ার পর রবিবারই কেন্দ্রীয় ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দায়িত্বভার দেওয়া হয়। নয়াদিল্লির ‘কর্তব্য ভবনে’ তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করার পরপরই স্কুল ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকল্প এবং উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।




