যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সালামানকা হাইস্কুলে মানবসদৃশ রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শিক্ষক-সহায়ক চালুর উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা। সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর অ্যালেগেনি অঞ্চলে অবস্থিত এই স্কুলটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা রিয়েলবোটিকসের তৈরি ‘স্যালি’ নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবট এবং একটি এআই শিক্ষক-সহায়ক ব্যবহার করতে যাচ্ছে। রোবটটির দাম ৫৭ হাজার ৫৯০ মার্কিন ডলার। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত শেখার সুযোগ তৈরি করবে বলে প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীরা দিনের ২৪ ঘণ্টাই ভার্চ্যুয়ালি এই রোবটের সহায়তা নিতে পারবে। ক্যাটারাগাস কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো স্কুল ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যানয়েড রোবট ও এআই শিক্ষক-সহায়ক ব্যবহারের পথে হাঁটছে।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও হাইস্কুলের শিক্ষক লেসি পিহলব্লাড বলেন, রিয়েলবোটিকসের সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং রোবটটির রেকর্ডিং ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পিহলব্লাড জানান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বর্তমানে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে সরে আসার নীতি গ্রহণ করছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের সঙ্গে সরাসরি মানুষের যোগাযোগের জন্য হিউম্যানয়েড রোবট বসানো অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত, এবং অধিকাংশ শিক্ষকেরও একই মত। নিউইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্সের সভাপতি মেলিন্ডা পারসন গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে প্রাণহীন যন্ত্র দাঁড় করানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা যখন মানুষের সঙ্গে মিশতে, বন্ধুত্ব গড়তে ও দ্বন্দ্ব মেটাতে শিখছে, তখন তাদের সামনে মানুষের সম্পর্কের অনুকরণকারী যন্ত্র আনা পেশাটির মারাত্মক অবমূল্যায়ন।

এদিকে প্রকল্পটির জন্য আদিবাসী শিক্ষার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি স্কুল বেছে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সালামানকা হাইস্কুলের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আদিবাসী আমেরিকান। সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর নেতারা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিক্ষক সমিতির দাবি, রোবটের ব্যবহার আপাতত স্থগিত রাখা হোক এবং এআই প্রযুক্তির সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ রেখে বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা ও মতামত গ্রহণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।