পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল থেকে সাংবাদিকদের ওপর চালানো হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রোববার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ মোট ৭০ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত শুক্রবার বিকেলে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং এলাকায় বাম ছাত্রসংগঠন ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ওই স্থানে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ করে, যাতে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনায় কলকাতার বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত সাংবাদিকদের অধিকাংশই মামলায় বাদী হয়েছেন, আর একটি মামলা পুলিশ স্বপ্রণোদিতভাবে করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই ঘটনার সঙ্গে বিদেশি শক্তি, জামায়াতি ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কোনো জড়িততা নেই বলে তিনি দাবি করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছাত্র নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগেও তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় নিজেদের দলের কাউকে জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা তৃণমূলের সদস্য নন এবং এ দায় দলের ওপর চাপানো ঠিক নয়। একইসঙ্গে, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিকৃত ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৮টি মামলা হয়েছে। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ একটি মামলা করে জানান, শ্রীলেখা মিত্রকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




