গ্রিসের একটি উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের বিস্তার ঘটলে সমুদ্রপথে জরুরি উদ্ধারকাজ চালিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগিয়াস ভাসিলিওস নামক স্থানটিতে আগুনের লেলিহান শিখায় চারদিক থেকে ঘেরা হয়ে পড়লে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নৌযানের মাধ্যমে সেখান থেকে আটকে পড়া লোকজনকে বের করে আনা সম্ভব হয়, যাদের বড় একটি অংশই ছিলেন পর্যটক।

শুক্রবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় আকস্মিকভাবেই ওই এলাকায় জনসাধারণের অবস্থান বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাদের দ্রুত সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় দমকল ও উপকূল রক্ষীবাহিনী। আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথেই ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম, কেননা স্থলপথে আগুন ছড়িয়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার এই ধারাবাহিক ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে।

এক প্রতক্ষ্যদর্শীর বয়ান থেকে জানা যায়, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ত্রাণকর্মীদের নির্দেশনায় সকলেই নিকটস্থ সমুদ্রতীরে জড়ো হন। সেখান থেকেই একের পর এক নৌকায় চড়িয়ে তাদের স্থানীয় দমকল বাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যান। সরকারি তথ্য মোতাবেক, এই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদোরে।

প্রসঙ্গত, গ্রিস, ইতালি ও স্পেনসহ দক্ষিণ ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বনভূমিতে দাবানল প্রায় বার্ষিক দুর্যোগের রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এড়িয়ে চলতে বলেছে। অদ্যাবধি এই দাবানল নিবারণে আন্তর্জাতিক সাহায্যের কোনো আবেদন না জানানো হলেও, পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়নি।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকতে পারে, যা নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াবে। আগুনের আগ্রাসন ঠেকাতে চলমান উদ্ধারকাজ ও মাঠপর্যায়ের নিরোধ চেষ্টা আরও জোরদার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।