রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর সন্তানের শেষ দিনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘মিরাজরা ১১ বন্ধু সেদিন আন্দোলনে ছিল। সবার সন্তান তাদের মায়ের বুকে ফিরে গেল। আমার সন্তান আমার বুকে এল না।’ শহীদ পিতার এই আকুতি উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসেসরটর কার্যালয় আয়োজিত এই গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসেসরটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আব্দুর রহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৫ আগস্ট সকালে মিরিজ ও তার বন্ধুরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে যাত্রাবাড়ীর পথে রওনা হন। নিজে ওই দিন ঘটনাস্থলের কাছে থাকায় পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন তিনি। তাঁর বর্ণনায়, তখন চারদিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ও গুলির আওয়াজে গোটা এলাকা যেন কেঁপে উঠেছিল; দৃশ্যটি ছিল ‘কিয়ামতের আলামতের’ মতো। তিনি নিজে হাতে অনেকগুলো মরদেহ বহন করেছিলেন বলেও জানান। মিরর যাত্রাবাড়ী থানার কাছের একটি গলিতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল এবং আর জীবিত ফিরে আসেনি। আব্দুর রহের প্রশ্ন, ‘দেশকে ভালোবেসে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কী অপরাধ ছিল আমার মিরিরের?’
এই গণশুনানিতে জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়িতে নিহত অন্যান্য শহিদের পরিবারওন এবং আহত ব্যক্তিরা অংশ নেন। চিফ প্রসেসরটর মোহম্মদ আমিনুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলে মামলা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সবাইকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে যাত্রাবাড়িতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত প্রায় ৮৫ জনের নাম-পরিচয় সংবলিত একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যাত্রাবাড়ির হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পৃথক হত্যা মামলায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায়, ১৬, ১৯ ও ২০ জুলাইসহ বিভিন্ন দিনের ঘটনাগুলো দিনভিত্তিক একীভূত করে একটি সমন্বিত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একটি বিচার প্রক্রিয়াতেই একাধিক ঘটনা এবং একাধিক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।




