প্রবল বঙ্গোপসাগরের তীব্র উত্তাল অবস্থার কারণে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনের মধ্যে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় দশ দিন ধরে। এতে চিকিৎসা, সরকারি কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে টেকনাফে আসা দ্বীপবাসীরা আটকা পড়েছিলেন। আজ শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমায় এবং সমুদ্রের অবস্থার আপেক্ষিক শান্ত হওয়ায় তিনটি কাঠের ট্রলারে করে তাদের সেন্ট মার্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খাল থেকে স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় যাত্রা শুরু করে ট্রলারগুলো। যাত্রীদের মধ্যে ৮০ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী ও ৩৯ জন শিশু ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ট্রলারগুলো সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়। পথে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোট ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলারের চলাচল বন্ধ ছিল। দশ দিন পর আজ বেলা সাড়ে ১১টায় তিনটি সার্ভিস ট্রলারে যাত্রীদের তোলা হয়। তিনি আরও বলেন, উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে সবাই নিরাপদে পৌঁছেছেন।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, নানা শঙ্কা সত্ত্বেও প্রায় তিন ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে তিনটি কাঠের ট্রলার নিরাপদে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাতে পেরেছে। তিনি জানান, ট্রলারে করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বীপের জন্য পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩০০ পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় নৌপথ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের তিনটি কাঠের ট্রলারে করে দ্বীপে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে সবাই নিরাপদে পৌঁছেছেন এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগের মতোই যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, টেকনাফে আটকা পড়া দ্বীপবাসীরা গত দশদিন টেকনাফের হোটেল ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। বর্তমানে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় তারা বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।