প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের পাঁচটি ভবনের নিচতলা এবং সামনের সড়ক হাঁটুপর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। জরুরি ও বহির্বিভাগের সাতটি ইউনিট প্লাবিত হওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্বিতীয় তলার বারান্দায় অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। গুরুতর অসুস্থ, আহত ও জরুরি প্রসূতি রোগীদের স্বজনেরা কোমর কিংবা গলাসমান পানি মাড়িয়ে কাঁধে করে, আবার কেউ কেউ নৌকা ও ভেলায় ভাসিয়ে হাসপাতালে আনছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বাসভবনও ডুবে গেছে, ফলে তারাও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কগুলো প্লাবিত থাকায় অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে আসতে পারছেন না। শনিবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৪৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ জন রোগী আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলাল উদ্দিন জানান, যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় কেবল অতি জরুরি রোগীরাই আসছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বন্যার মধ্যেও ১২টি প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখনো হাসপাতালে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি; রোগীদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৬০ বছর বয়সী ছেনু আরা শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার দিন আগে একাই হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁর বাড়ি সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায়। বন্যার কারণে বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি তাঁর তিন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। খাবারও পছন্দ হচ্ছে না বলে জানান তিনি। হাসপাতালে থাকা অন্তত ৩০ জন রোগী একই অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগহীন হয়ে পড়েছেন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে পানি ঢুকতে শুরু করে, যা পরের দিন গলাসমান হয়। কিছুটা কমলেও পুরো এলাকা এখনো কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। হাসপাতালের ল্যাবের প্রয়োজনীয় বহু সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। সাঙ্গু নদের পানি আবার বেড়ে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কে এখনো যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও ১৭টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত। পানিবন্দী আছেন অন্তত চার লাখ মানুষ। সাতকানিয়ার ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান করছেন, তবে অনেক পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।




