ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের হালদারপাড়ায় অবস্থিত ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’–এর জমি দখলসংক্রান্ত বিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল মঞ্জুর করেছেন ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে (ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল) পাঠানোর নির্দেশ দেন। আপিল ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. মাছুম জানান, উভয় পক্ষের কৌঁসুলিদের উপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১০ মার্চ। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বড় মেয়ে সরিজা বেগমের ছেলে মিজানুর রহমান, মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও সেলিম মিয়া এবং খুরশেদ মিয়া খাঁ নামে এক ব্যক্তি একটি দানপত্র দলিলের মাধ্যমে বিএস খতিয়ান সংশোধনের মামলা দায়ের করেন। বাদীপক্ষ দাবি করে, সংগীতাঙ্গনের মোট সাড়ে ৪৯ শতক জমির মধ্যে ৮ শতক জায়গা তাদের দখলে রয়েছে। তারা সেখানে ঘর তৈরি ও পুকুরে মাছ চাষ করে ভোগদখল করছে বলে দাবি করে। গত ২৫ মে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ কাজী কামরুল ইসলাম বিনা খরচে ডিক্রি জারি করে জেলা প্রশাসককে বিএস জরিপ সংশোধনের নির্দেশ দেন। এই রায়ের ফলে সংগীতাঙ্গনের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে।
আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা আনন্দিত। পুনর্বিচারের আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত হলো। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হব যে প্রতিপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।’ অন্যদিকে, আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও বিশেষ পিপি মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, যথার্থ আদেশ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একতরফা রায় স্থগিত হলো। এখন নিম্ন আদালতে নতুন করে শুনানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনের জমি রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’ আপিলের শুনানিতে আপিলকারী পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিন শতাধিক আইনজীবী ওকালতনামায় স্বাক্ষর করে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে মো. শাহাদাত হোসেন ও আবিদ উল্লাহ।
সরেজমিন দেখা গেছে, সংগীতাঙ্গনে আটটি কক্ষ ও একটি মিলনায়তন রয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষে জাদুঘর স্থাপিত। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোনো পুকুর বা পরিবারের বসবাসের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সামনের দিকে ৮ শতাংশ জায়গারও কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে আলাউদ্দিন খাঁর কোনো স্বজনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’ পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক। সাংস্কৃতিক এই প্রতিষ্ঠানটি শাস্ত্রীয় সংগীতের মহাসাধক ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত। আইনি লড়াই অব্যাহত রেখে সংগীতাঙ্গনের জমি রক্ষায় সুরক্ষা কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



