রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষকের তালিকা উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছে। একইসঙ্গে সংগঠনটি অভিযুক্ত শিক্ষকদের দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে রাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধিরা এই তালিকা পৌঁছে দেন।
তালিকা হস্তান্তর পরবর্তী সময়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত অনেক শিক্ষক এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন। তিনি আরও বলেন, এই শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সালাউদ্দিন আম্মার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাকসু সেসব শিক্ষককে নিজেরাই চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একাধিকবার জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে বলেও জানান রাকসু নেতারা। রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক এস এম সালমান সাব্বির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীরা এখনও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার ও ব্যানার লাগানোর ঘটনাও সামনে এনেছেন নেতারা। এস এম সালমান সাব্বির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের দেওয়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি দ্রুততার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা বলেন। উপাচার্য আশ্বাস দেন যে, বিচার কার্যক্রমের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।



