সুন্দরবন অঞ্চল থেকে দস্যুতা নির্মূলে কোস্টগার্ডের অভিযান জোরালো হচ্ছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন বনদস্যু তাদের অস্ত্রশস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। কোস্টগার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আত্মসমর্পণকালে দস্যুদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশি একনলা বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০টি তাজা কার্তুজ ও ৫৫টি ফাঁকা কার্তুজ।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম অনুষ্ঠানে বলেন, অতীতে আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ পুনরায় বনদস্যুতায় জড়িয়ে পড়েছিল। তবে এবার সেই সুযোগ আর থাকবে না। এটি তাদের জন্য শেষ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক এবং ৪২ জন জেলে ও বনজীবীকে দস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্যও অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিল।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, ২০১৮ সালে তিনি আত্মসমর্পণ করার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলা ও হামলার শিকার হয়ে তিনি আবার সুন্দরবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, যদি পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয় তবে তিনি আর অপরাধের পথে ফিরবেন না।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।