দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জিওজেতে সোমবার সকালে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচতলা ভূমিধসে চাপা পড়ে যায়। উদ্ধারকর্মীরা তিনজনকে উদ্ধার করলেও পরে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শহরটিতে এক ঘণ্টায় ১২৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৭২ সালে আবহাওয়া সংস্থা রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে সর্বোচ্চ। রবিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জিওজেতে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শক্তিশালী স্রোতে রাস্তায় ডুবে যাচ্ছে গাড়ি।

ভারী বৃষ্টির কারণে সোমবার কিছু পর্যটন আকর্ষণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। বন্যা ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার কারণে বাস চলাচল এবং গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহও স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের গাড়ি চালানো এড়াতে, নদীর তীরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে দূরে থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

চলতি মাসে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল অঞ্চল জুড়ে একের পর এক ঝড় আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক বন্যা এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জুন মাসে শুরু হওয়া শক্তিশালী এল নিনোর কারণে এ বছর টাইফুন মৌসুম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তীব্র হতে পারে। এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং টাইফুনের শক্তি বৃদ্ধি করে।

গত সপ্তাহের শেষের দিকে, টোকিওর কাছে জাপানের চিবা প্রশাসনিক অঞ্চলে 'অভূতপূর্ব' বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নারিতা বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। এই দুর্যোগে ২০ হাজারেরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রবিবার জাপানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার বাড়িতে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি জেনারেটর ব্যবহার করছিলেন বলে পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে জানিয়েছে।

এদিকে, পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিধসে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন এবং শত শত বাড়ি ও সরকারি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।