নরওয়ের সালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অমান্য করে একটি মেরু ভালুকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর দায়ে এক ব্যক্তিকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির ওপর ৫০ হাজার ক্রোনার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার সমান। চলতি মাসের শুরুর দিকে উত্তর-পশ্চিম সালবার্ডের একটি সমুদ্রখাঁড়ি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনাক্রম অনুযায়ী, উত্তর মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই এলাকায় একটি জাহাজ চলাচল করছিল। জাহাজের আরোহীরা লক্ষ্য করেন যে স্থলভাগে একটি মেরু ভালুক গভীর ঘুমে মগ্ন। সেই মুহূর্তে নৌযানে থাকা এক ব্যক্তি কৌতূহলবশত বা অন্য কোনো কারণে জাহাজের ফগহর্ন বাজিয়ে তোলেন। উচ্চশব্দের কারণে ঘুমন্ত ভালুকটি জেগে ওঠে এবং দ্রুত অন্য স্থানে সরে যায়। ওই অঞ্চলের গভর্নর লার্স ফাউসে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গোপন রাখা হয়েছে।

সালবার্ডের স্থানীয় আইন অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া মেরু ভালুককে বিরক্ত করা, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা কিংবা তাদের তাড়া করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সালেই সালবার্ডে মেরু ভালুককে একটি সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের একটি বৈজ্ঞানিক জরিপ অনুযায়ী, এই দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ২৫০টি মেরু ভালুকের অস্তিত্ব রয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করার জন্য জরিমানা করার নজির এই অঞ্চলে আগেও দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে একজন পর্যটক একটি ওয়ালরাসের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় তাকে ১১ হাজার ৫০০ ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছিল। সালবার্ডের পরিবেশ আইনের মূল লক্ষ্য হলো বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা। এই অঞ্চলের মেরু ভালুক, বল্গা হরিণ, মেরু শিয়াল, তিমি এবং সিলের মতো প্রাণীদের যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিরক্ত না করা হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয় এবং পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।