পুরোনো জিনিসকে ফেলনা ভাবার দিন শেষ। ‘থ্রিফট শপ’, ‘ডিক্লাটার’, ‘রিইউজ’, ‘রিডিউস’ কিংবা ‘রিসাইকেল’—এই শব্দগুলো এখন আর শুধু পরিবেশ আন্দোলনকারীদের সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিকল্প জীবনধারার অংশ হয়ে উঠেছে। ফাস্ট ফ্যাশনের বিপরীতে ব্যবহৃত পোশাকের পুনর্ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিনিময় কিংবা পুরোনো সামগ্রী কেনাবেচার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকার আসাদগেটের ৩ নম্বর মিরপুর রোডে শুরু হয়েছে ‘পুনঃব্যবহার হাট’। প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আলাই এই আয়োজন করেছে। ‘পুরোনো মানেই ফেলনা নয়, ঝোঁকের বশে ক্রয় নয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেলাটি চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই হাট।

সংস্কৃতির এই আয়োজনে থাকছে নানা রকম পণ্য—গাছ, বই, ব্যাগ, গয়না, শাড়ি, জামা ছাড়াও চায়ের কাপ, টি-পটসহ আরও নানা সামগ্রী। দর্শনার্থীরা এখান থেকে পণ্য কিনতে পারবেন আবার নিজের কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রিও করতে পারবেন শর্ত সাপেক্ষে।

বর্তমান যুগে মানুষের আঙুলের ডগায় বাজার চলে এসেছে। অনলাইনে কয়েক ক্লিকেই পণ্য পৌঁছে যায় ক্রেতার দোরগোড়ায়। ফলে ক্রয়ের মাত্রা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে একবার ব্যবহারের পর জিনিস ফেলে দেওয়ার প্রবণতা। বিশেষ করে একটি পোশাক অনুষ্ঠানে পরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হলে তার ব্যবহার-উপযোগিতা শেষ হয়ে যায় বলে মনে করেন অনেকেই। এতে যেমন অপচয় হয়, তেমনি নতুন পণ্য উৎপাদনে পানি, বিদ্যুৎ খরচ, কার্বন নিঃসরণ এবং মাটি-পানি-বায়ু দূষণ হয়—যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পুরোনো জিনিসের পুনর্ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ঘরের অনাবশ্যক সামগ্রী যে আরও কত কাজে লাগতে পারে, সেই বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে এই হাট। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের মধ্যে বিকল্প জীবনযাপনের ধারণা প্রসারিত করবে।