প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইতিমধ্যেই এন্ট্রি-লেভেল কর্মীদের সমান কাজ করতে সক্ষম এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সাদা-কলার চাকরির অর্ধেক কমিয়ে দিতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে অনেকেই নিরাপদ ভবিষ্যতের পথ হিসেবে দেখছেন — কারণ এখানে বেকারত্বের হার কম, আয়ের সম্ভাবনা বছরে ২০০ হাজার ডলারেরও বেশি, আর রোবট ডাক্তার বা নার্স দিয়ে মানুষের চাকরি প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও এখনই নেই। তবে মেডিকেল স্কুলে আবেদন করার আগে একটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি: চাকরির নিরাপত্তা মানেই যে কর্মজীবনে সুখ মিলবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
শিফট ওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম ডেপুটি পরিচালিত ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডাক্তার, প্যারামেডিক এবং এমনকি কাইরোপ্র্যাক্টররাও সবচেয়ে অসন্তুষ্ট কর্মীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। গবেষণাটি ১২ লাখ ৮০ হাজার ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত হয়। তথ্য অনুযায়ী, ডাক্তারদের অফিস ও মেডিকেল ক্লিনিকগুলোতে কর্মীদের অসন্তুষ্টির হার সবচেয়ে বেশি — প্রায় ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা নিজেদের কাজে অসুখী। কাইরোপ্র্যাক্টর এবং জরুরি ও ক্রিটিক্যাল সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মীরাও পিছিয়ে নেই। প্রাণী স্বাস্থ্য খাতকে হিসাবের মধ্যে আনলে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে কর্মীদের সুখের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ পাঁচটি পেশার মধ্যে চারটিই স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট।
স্বাস্থ্যসেবাকে অর্থবহ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই খাতের কর্মীরা অন্যদের তুলনায় বেশি ক্লান্তি ও হতাশায় ভোগেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীদের মনোবল কমার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে কর্মী সংকট, মানসিক চাপ, অনিশ্চিত রুটিন এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপ। গবেষণায় সবচেয়ে অসন্তুষ্ট শিল্প খাতের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডাক্তার অফিস ও মেডিকেল ক্লিনিক (৩৭.৮৪ শতাংশ), তারপর প্রাণী স্বাস্থ্য (১৭.৯৫ শতাংশ), কাইরোপ্র্যাক্টর (১২.৯৩ শতাংশ), ক্রিটিক্যাল ও জরুরি পরিষেবা (১২.০৫ শতাংশ), কল সেন্টার (১২ শতাংশ), ক্যাটারিং (৮.৬০ শতাংশ), ডেলিভারি ও ডাক পরিষেবা (৬.৯৭ শতাংশ), কেয়ার সুবিধা (৬.২২ শতাংশ), পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা (৫.৮০ শতাংশ) এবং ব্যক্তিগত পরিষেবা (শেফ, মালি প্রভৃতি — ৫.৬২ শতাংশ)।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ফাস্ট ফুড বা ওয়েট্রেসের মতো যে কাজগুলোকে স্নাতকরা একসময় নিচু চোখে দেখতেন, সেগুলোই এখন কর্মজীবনে সুখ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিরাপদ বাজি হয়ে উঠছে। ডেপুটির গবেষণায় আতিথেয়তা খাত ভালো ফল করেছে — সবচেয়ে সুখী দশটি খাতের অর্ধেকই এই খাতের অন্তর্ভুক্ত, যদিও উচ্চ চাপ, অসামাজিক কর্মঘণ্টা এবং কম বেতনের জন্য এই খাতের কুখ্যাতি রয়েছে। বসে খাওয়ার রেস্টুরেন্টের কর্মীরা (৮৯.৭ শতাংশ), ফাস্ট ফুড ও ক্যাশিয়ার রেস্টুরেন্ট (৮২.৯ শতাংশ), ফুড পপ-আপ দল (৮২.৫ শতাংশ) এবং ক্যাফে বা কফি শপের কর্মীরা (৮২ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি কাজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। ফুল বিক্রেতা, শিশুযত্ন কর্মী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কর্মজীবনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
কেন এই কাজগুলো এত সন্তোষজনক? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর কারণ বেতন বা মর্যাদা নয়, বরং প্রতিদিনের কাজের অভিজ্ঞতা। এই ভূমিকাগুলোতে কর্মীরা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার রুটিন, পরিচালনাযোগ্য কাজের চাপ এবং শক্তিশালী দলগত বন্ধুত্ব পান, যা কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক সংস্কৃতি ও কাঠামোগত আবেগগত মূল্যকে তুলে ধরে। যদিও স্নাতকদের স্বপ্নের ক্যারিয়ারের তালিকায় এই কাজগুলো শীর্ষে নাও থাকতে পারে, তবে পৃথক তথ্য বলছে, বারটেন্ডার ও বারিস্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার অফিসকর্মীদের চেয়ে দ্রুততর।
সবচেয়ে সুখী শিল্প খাতের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে তামাক, ই-সিগারেট ও ভ্যাপ স্টোর (৯৩.৪ শতাংশ), তারপর বসে খাওয়ার রেস্টুরেন্ট (৮৯.৭ শতাংশ), ফাস্ট ফুড/ক্যাশিয়ার রেস্টুরেন্ট (৮২.৯ শতাংশ), ফুল বিক্রেতা (৮২.৯ শতাংশ), ফুড পপ-আপ (৮২.৫ শতাংশ), ক্যাফে/কফি শপ (৮২ শতাংশ), ডেন্টিস্ট (৮১.৮ শতাংশ), শিশুযত্ন/কমিউনিটি সেন্টার (৭৮.৪ শতাংশ), ক্যাটারিং (৭৫.৩ শতাংশ) এবং পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা (৬৪.৩ শতাংশ)।
ফরচুন ডট কমে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা উস্কে দিয়েছে।




