মালয়েশিয়ার জহর রাজ্যে অবস্থিত ফরেস্ট সিটি একসময় 'প্যারাডাইস' বা স্বর্গরাজ্য হিসেবে বিপণন করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই স্বপ্নের ঠিকানাতেই থাবা বসিয়েছে অপরাধ জগৎ। গত মাসে সমুদ্রতীরবর্তী এই আবাসিক এলাকায় ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে সন্দেহজনক জালিয়াতি বা স্ক্যাম কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
বিলাসবহুল এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় জনশূন্য অবস্থায় পড়ে ছিল — একে অনেকেই 'ভূতুড়ে শহর' হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি পুলিশের নজরে আসে যে, এই ফাঁকা ভবনগুলোই যেন অপরিচিত এক জনগোষ্ঠীর কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাগরপাড়ের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বসে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত মাসে, যখন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হঠাৎ করেই ফরেস্ট সিটির বিভিন্ন ব্লকে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখানে পরিচালিত সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম এবং প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, সাইটটিতে একাধিক স্ক্যাম অপারেশন সক্রিয় ছিল, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, চীনা ডেভেলপার কান্ট্রি গার্ডেনের তৈরি ফরেস্ট সিটি প্রকল্পটি একসময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে আকাশচুম্বী আবাসিক ভবন, শপিং মল এবং বিলাসবহুল সুবিধা থাকার কথা ছিল। কিন্তু বিক্রি না হওয়া এবং ক্রেতাদের আগ্রহের অভাবে প্রকল্পটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি পুলিশের এই অভিযান প্রকল্পটির ভাগ্যে নতুন অধ্যায় যোগ করল, যা এখন অপরাধ তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
পুলিশের অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযানের সময় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই স্ক্যাম চক্রটি আন্তর্জাতিক পরিধিতে কাজ করছিল এবং এর সঙ্গে একাধিক দেশের অপরাধী চক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে।




