মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রয়কারী ওয়ালমার্টের একই ধরনের চালু দোকানগুলোর বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানির বিক্রি বাদ দিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। যদিও এটি বৃদ্ধির চিহ্ন, তবু ছয় বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ধীরগতি—যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মার্কিন ভোক্তারা এখন তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি। ব্যবসার বিশাল পরিধি ও আকারের কারণে ওয়ালমার্টকে গ্রাহকদের মনোভাব বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিক্রির গতি কমে যাওয়ার পেছনে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানির বাড়তি দামকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ওয়ালমার্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি জানিয়েছেন, পেট্রলের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের হাতে অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ কমে যাচ্ছে। প্রতি গ্যালন পেট্রলের মূল্য চার ডলারের বেশি হয়ে যাওয়ার পর ক্রেতাদের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত জুনে জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় হয়ে ওঠে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো—যারা ওয়ালমার্টের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতাগোষ্ঠী—তখন অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে দিয়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করতে শুরু করে। রেইনির ভাষ্য অনুযায়ী, যদিও খাদ্যপণ্য, খেলনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের বিক্রি বেড়েছে এবং দাম কমানোর ফলে লেনদেনের সংখ্যা ও বিক্রিত পণ্যের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবু খুচরা বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো একরকম নয়।
দাম কমানোর এই কৌশলের পেছনে রয়েছে একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা পণ্যের ওপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক আরোপের পর ওয়ালমার্ট যে কর পরিশোধ করেছিল, তার একটি অংশ—প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার—ফেরত পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে আদালত এসব শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় কেন্দ্রীয় সরকার খুচরা বিক্রেতাদের সেই অর্থ ফেরত দিচ্ছে। ওয়ালমার্টের প্রতিদ্বন্দ্বী টার্গেট ইতিমধ্যে এক বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত পেয়েছে, যা তাদের মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, প্রত্যাশিত এই প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর কর্মসূচি—‘রোলব্যাক’—অব্যাহত রাখা হবে। ক্রেতাদের ধরে রাখতে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১১ হাজার পণ্যের দাম কমিয়েছে।
তবে আর্থিক ফলাফলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিছু ঝুঁকিও। গত প্রান্তিকের (মে-জুলাই) মুনাফা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ এসেছে ইতিমধ্যে পাওয়া শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি এককালীন সুবিধা; ভবিষ্যতে একই মাত্রায় এমন লাভের সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে পণ্যের দাম কমানোর ফলে কোম্পানিটির লাভের হারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ওয়ালমার্ট স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, নতুন গুদামঘর ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করছে—যা ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করছে।
আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর আয়-বিষয়ক আলোচনায় বিশ্লেষকরা ব্যবস্থাপনার কাছে জানতে চেয়েছেন, মূল্যছাড়ের ফলে বিক্রি বৃদ্ধি টেকসই কি না এবং এসব ছাড়ের কিছু অংশ ২০২৭ সালেও স্থায়ী করা হবে কি না। ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, এই মূল্যছাড়ের সুফল সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রিতে। যেসব ছাড় ভালো সাড়া ফেলেছে, সেগুলোকে স্থায়ী করার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় চেষ্টা করবে যেসব স্থানে সম্ভব, সেসব মূল্যছাড়কে স্থায়ী রূপ দিতে—এটি তাদের প্রধান লক্ষ্য।




