ফুটবলের জগতে কুসংস্কার ও কাকতালীয় ঘটনা প্রায়ই আলোচনায় আসে। স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানে ভক্তদের মনেও তেমনই কিছু সাযুজ্যের ছাপ দেখা যাচ্ছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতা স্প্যানিশ দলের সঙ্গে বর্তমান দলের বেশ কিছু অসাধারণ মিল সমর্থকদের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। এই সাদৃশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে বিশ্বকাপে আসা, গ্রুপ এইচ-এ অবস্থান, শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে ফলাফল, উদ্বোধনী ম্যাচের তারিখ, কোচিং-এ জোসে মরিনিওর ফিরে আসা, বার্সেলোনার খেলোয়াড়ের সংখ্যা এবং শাকিরার সঙ্গীতের উপস্থিতি।
প্রথম মিলটি হলো ইউরো জয়ের পর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। ২০০৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর স্পেন ২০১০ সালে বিশ্বজয় করে। একই ধারা বজায় রেখে ২০২৪ সালের ইউরো শিরোপা জিতে বর্তমান বিশ্বকাপে এসেছে স্পেন। একই চক্রে পরপর দুটি বড় ট্রফি জয়ের লক্ষ্য এখন তাদের।
দ্বিতীয় মিলটি গ্রুপ পর্বের। ২০১০ সালে 'গ্রুপ এইচ'-এ খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্রতেও লুই দে লা ফুয়েন্তের দলকে রাখা হয়েছে 'গ্রুপ এইচ'-এ। এটি একটি নজরকাড়া সাদৃশ্য।
তৃতীয় সাদৃশ্যটি শেষ ষোলোর ম্যাচকে ঘিরে। ২০১০ সালের আসরে শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল পর্তুগাল, যাদের তারা ১-০ গোলে হারায়। ২০২৬ সালের শেষ ষোলোতেও একই প্রতিপক্ষ পর্তুগালের মুখোমুখি হয় স্পেন, এবং ফলাফল আবারও ১-০ জয়। প্রতিপক্ষ ও ব্যবধান—দুটোই অপরিবর্তিত থাকায় এটি বেশ চমকপ্রদ।
চতুর্থ মিলটি উদ্বোধনী দিনের। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সূচনা হয়েছিল ১১ জুন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে। একইভাবে ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টও ১১ জুন তারিখেই শুরু হয়, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোই উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়—শুধু দলের ভূমিকা বদলেছে।
পঞ্চম বিষয়টি কোচিং-সংক্রান্ত। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে জোসে মরিনিও রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেন। বর্তমান বিশ্বকাপের মৌসুমেও মরিনিও আবারও বার্নাব্যুতে ফিরে এসেছেন।
ষষ্ঠ মিলটি বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিয়ে। ২০১০ সালের বিশ্বজয়ী স্পেন দলে বার্সার ফুটবলার ছিলেন ৮ জন। ২০২৬ সালের স্কোয়াডেও বার্সেলোনার খেলোয়াড়ের সংখ্যা ঠিক ৮—জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, গাভি, পেদ্রি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস ও লামিনে ইয়ামাল।
সপ্তম ও শেষ মিলটি হলো শাকিরার সংগীত। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তার 'ওয়াকা ওয়াকা' গানটি। ২০২৬ সালের আসরেও শাকিরা 'দাই দাই' গান দিয়ে মাতিয়েছেন। শাকিরার উপস্থিতি দুই আসরেই সমানভাবে দর্শকদের মন কেরেছে।
এই সাতটি কাকতালীয় ঘটনা মাঠের খেলার ফল পরিবর্তন না করলেও স্পেন সমর্থকদের মধ্যে আস্থা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে। তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে দলের পারফরম্যান্সের ওপর। ঘটনাগুলো কেবল ভক্তদের মনে এক মজার রসদ হিসেবে কাজ করছে।




