কলেজে প্রবেশ করা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এটি প্রাপ্তবয়স্কদের নতুন কিছু দায়িত্ব পালনের শুরু। শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টি ক্রেডিট কার্ডের সঠিক ব্যবহার, ব্যয় করার সুস্থ অভ্যাস তৈরি এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয়ে ওঠার উপযুক্ত মুহূর্ত। 'স্টুডেন্ট কানেকশনস'-এর প্রোডাক্ট ইনোভেশন ডিরেক্টর সারা উইলসনের মতে, কলেজ জীবনে নেওয়া আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি প্রভাব ফেলে স্নাতক পরবর্তী প্রথম চাকরিতে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির আর্থিক নিরাপত্তার ওপর। তাই এই সময়েই একটি মজবুত আর্থিক ভিত্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। যারা এই শরতে কলেজে শুরু করছেন বা বর্তমানে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

প্রথমত, ক্রেডিট স্কোর তৈরির কাজ শুরু করা। ক্রেডিট কারমার কনজিউমার ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভোকেট কোর্টনি অ্যালেভ জানান, ঋণদাতারা সাধারণত একটি গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করেন যে কোনো ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে কতটা সক্ষম, যাকে ক্রেডিট স্কোর বলা হয় (এর মান ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়)। এই স্কোর কম হলে গাড়ি ঋণ, গৃহঋণ বা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং খরচ বেড়ে যায়। অ্যালেভ পরামর্শ দেন যে, সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড বা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দ্রুত এই যাত্রা শুরু করা উচিত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতি মাসে যতটুকু পরিশোধ করার ক্ষমতা আছে ঠিক ততটুকুই খরচ করা।

দ্বিতীয়ত, যথাসম্ভব বাজেট তৈরি করা। খণ্ডকালীন চাকরি, পারিবারিক সহায়তা বা স্টাইপেন্ডের মতো বিভিন্ন উৎস থেকে আয় আসায় অনেক সময় অর্থ ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অ্যাপ, স্প্রেডশিট বা খাতায় লিখে মাসিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব রাখা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ফিন্যান্সিয়াল থেরাপিস্ট লিন্ডসে ব্রায়ান-পডভিন পরামর্শ দিয়েছেন, মাসিক বিলগুলোকে চার ভাগে ভাগ করে সাপ্তাহিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে। যেমন- মাসিক ভাড়া ১০০০ ডলার হলে প্রতি সপ্তাহে ২৫০ ডলার আলাদা করে রাখা। এতে অনিয়মিত আয়ের মাঝেও খরচ সামলানো সহজ হয়।

তৃতীয়ত, সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা। বিনিয়োগের কথা ভাবার আগে একটি জরুরি তহবিল (Emergency Fund) তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন কোর্টনি অ্যালেভ। তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হলেও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে সঞ্চিত অর্থই জীবন রক্ষাকারী হয়। বিনিয়োগ শুরু করার আগে অন্তত কয়েক মাসের ভাড়া ও প্রয়োজনীয় খরচের টাকা জমিয়ে রাখা উচিত।

চতুর্থত, বন্ধুদের সাথে অর্থ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলা। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় অনেক সময় সামর্থ্যের বাইরে খরচ করার চাপ তৈরি হয়। ব্রায়ান-পডভিন মনে করেন, নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায়। যেমন- যদি জিম মেম্বারশিপ আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে বন্ধুদের সাথে বাইরের খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করা সহজ হবে।

পঞ্চমত, স্টুডেন্ট লোনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখা। স্নাতক শেষ করার পর ঋণ পরিশোধ শুরু হলেও, পড়ার সময়েই কত টাকা ঋণ নেওয়া হচ্ছে, মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ কত হতে পারে—সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। সারা উইলসনের মতে, এই বিষয়ে সচেতন থাকলে একজন শিক্ষার্থী ঋণের বোঝা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানসম্পন্ন ভোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে।

ষষ্ঠত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা। উচ্চশিক্ষা আর্থিক সুস্থতা জোটের নির্বাহী পরিচালক ফিল শুম্যান জানান, ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি, স্টুডেন্ট লাইফ অফিস বা রিক্রিয়েশন সেন্টারে বিনামূল্যে অনেক পরামর্শ পাওয়া যায়। এসব সম্পদ ব্যবহার করলে আর্থিক সহায়তা বা বাজেট প্রণয়ন সহজ হয় এবং এখানে কোনো বিচার বা সংকোচের ভয় থাকে না।

সবশেষে, আর্থিক ভুল হলে আতঙ্কিত না হওয়া। অর্থ ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘমেয়াদী শেখার প্রক্রিয়া। ভুল সবারই হয়, তাই নিজের প্রতি কঠোর না হয়ে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং তা সংশোধন করার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষজ্ঞ ফিল শুম্যানের মতে, কারোই অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিখুঁত হওয়া সম্ভব নয়, তাই ভুল হলে অভিজ্ঞ কারো সাথে কথা বলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।