জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট দূর করতে একটি খণ্ডকালীন 'শিক্ষক পুল' গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে। এই বিশেষ পুলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো যায়।

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্নাতক (পাস) এবং স্নাতক (সম্মান) উভয় প্রোগ্রামে নতুন কোর্স যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুণগত মান বজায় রাখতে দ্বিতীয় বর্ষের জন্য ৪ ক্রেডিটের ‘অ্যাপ্লায়েড আইসিটি কোর্স’ এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সিলেবাস ও রেগুলেশন সভায় অনুমোদিত হয়। এছাড়া গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিংয়ের মতো আধুনিক কারিগরি বিষয়গুলোও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক আমানুল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করে যেন বাস্তব দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করানো যায়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল। স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, বিশেষ বিবেচনায় তাঁদের আরও একবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাদের সিজিপিএ ২.২৫-এর কম, তাঁদের শিক্ষাজীবন থেকে দূরে যাওয়া ঠেকাতে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশন এবং বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল ও নতুন কারিকুলামও এই সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

অন্য দিকে, বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে আলোচনা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) এবং এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উক্ত সভায় সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নাজমুল হোসাইনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং কলেজ অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।