চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রযোজনায় নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাই ডায়েরিজ’ প্রদর্শিত হয়েছে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে। রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের বার্তা ছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কাহিনি কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মূল প্রাণশক্তি ছিল পথচলা মানুষ, তরুণ-তরুণী ও শ্রমজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আত্মদান।
প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী এই প্রামাণ্যচিত্রে আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ নাগরিক, অরাজনৈতিক তরুণ ও খেটে খাওয়া মানুষের ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও সংগ্রামের গল্প স্থান পেয়েছে। নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে দেড় লাখ টাকার কিছু বেশি, যার সিংহভাগ অর্থই এসেছে গণ অর্থায়নের (ক্রাউডফান্ডিং) মাধ্যমে, যা এক হিসেবে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
প্রদর্শনী-পরবর্তী মুক্ত আলোচনায় ইংরেজি পত্রিকা নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর জোর দেন যে, স্মৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা এবং ইতিহাস লিপিবদ্ধকরণে এমন উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি ব্যক্ত করেন, গণ-অভ্যুত্থানে সমাজের ভিন্ন ভিন্ন পেশা ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার মানুষ যুক্ত হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। নূরুল কবীর আরও বলেন, এই গণজাগরণের সর্ববৃহৎ শক্তি ছিল এর স্বতঃস্ফূর্ততা, যদিও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বদলের জন্য সংঘটিত রাজনীতির চর্চাও জরুরি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি ও প্রাক্তন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার তরুণ নির্মাতাদের প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের এই ইতিহাস মোটেও কয়েকজন ব্যক্তির, বরং তা অগণিত সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীজনের গৌরবগাথা। জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে শ্রমিক সম্প্রদায়ের, তাদের আত্মদানের গল্পও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে সংরক্ষিত হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব সামান্তা শারমিন এই প্রসঙ্গে বলেন, জুলাই অভিজ্ঞতার প্রকৃত অর্থ বুঝতে যত বেশি সংখ্যক সাধারণ মানুষের নিজস্ব জীবনদর্শন ও অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটবে, ইতিহাস ততখানিই সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠবে। তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত কোনো সৃজনকর্ম কখনোই কোনো নির্দিষ্ট অর্থদাতার কাছে নয়, বরং জনসাধারণের কাছেই জবাবদিহি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখে নির্মাতাকে।
তথ্যচিত্রটির নির্মাতা লিখন দত্ত, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, অনুষ্ঠানে জানান, মূলত পথেচলিত জনতার অভিজ্ঞতার আলোকেই জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নথিভুক্ত করাই ছিল তার এই কাজের উদ্দেশ্য। জুলাই নিয়ে শত মানুষের আছে ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধি, এবং এই প্রামাণ্যচিত্রটি সেই বিচিত্র অভিজ্ঞতার একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণকে হাজির করার চেষ্টা মাত্র। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ।




