কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তারা গোপনে বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এই মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মোট ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৬ জুলাই) উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুরে উখিয়া থানার কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন।

পুলিশের দাবি, ওই বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া থানার একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) ও আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়। অপরদিকে বাকিরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহসভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের স্লোগান ও কর্মকাণ্ড থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ, একাধিক অভিযান পরিচালনা এবং পলাতক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মামলাটি করা হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, উখিয়ার পালংখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উদ্যোগে সভার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পালংখালী স্টেশন এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে।