দীর্ঘদিন সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ শেষে বছরখানেক আগেই দেশে ফিরেছিলেন আলী হোসেন। সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ফের বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এ বাসিন্দা। সম্প্রতি কাতারের ভিসা পাওয়ার পর আবশ্যিক শারীরিক পরীক্ষাও সেরে ফেলেছিলেন তিনি। পরীক্ষা শেষে বিয়ানীবাজারে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথেই শেষ হয়ে গেল সব স্বপ্ন।

রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার–বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাতলিঘাট এলাকায় একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৮ বছর বয়সী আলী হোসেন। এ দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা জুড়ী থানার কনেস্টেবল আবদুস সবুরসহ আরও পাঁচজন যাত্রী আহত হন।

আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল ফেরদৌস, ৫৫ বছর বয়সী সালাতুন বিবি, শামীম (৩৫) ও ১৮ বছর বয়সী জিসান আলী রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি ঘটায় তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত প্রত্যেকেই জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা।

নিহত আলী হোসেনের জীবন সংগ্রামের গল্পটি ছিল অনুপ্রেরণামূলক। প্রায় পাঁচ বছর সৌদি আরবে শ্রম দেওয়ার পর দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। সম্প্রতি তার সংসারে এসেছিল নতুন অতিথি, মাত্র ৩৫ দিন আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তার স্ত্রী। পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কাতারের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পূর্ণ পরিকল্পনা ছিল তার। ২০ জুলাই সিলেটের একটি হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করে তিনি বোনের বাড়ি গিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পর আলী হোসেনের চাচাতো ভাই মাহমুদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ‘সৌদি থেকে ফেরার পর তার রোজগার অনেকটা কমে গিয়েছিল। উন্নত রোজগারের প্রত্যাশায় আবার কাতার যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পুরনো হলো না।’ তাঁর এ বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এক প্রবাসী পরিবারের অসহায়ত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। তবে রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বড়লেখার ওই সড়কে এ ধরণের মর্মান্তিক দূর্ঘটনা স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একটি ত্রে পুলিশ সদস্যসহ একজন নবজাতকের বাবাকে কেড়ে নেওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।