বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এক সাঁওতাল তরুণের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার ভাষ্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও শোষণের তিক্ত অভিজ্ঞতা, যা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতি সমাজের উদাসীনতারই প্রতিচ্ছবি।
তিনি বলেন, সাঁওতাল পাড়ার কেউ জসীমউদ্দীনের কবিতা পড়ে না, শচীন দেববর্মনের গানও তাদের মনে দোলা দেয় না। ছায়ানটের অনুষ্ঠানে মাদলের সুর না থাকায় সাঁওতাল সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা। বকুলতলার উৎসবে সাঁওতালদের বিলুপ্তির বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দেয় না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পেটের ক্ষুধা নিয়ে পূর্বপুরুষরা মাঠে খরগোশের পেছনে ছুটেছেন, কিন্তু সেই কষ্টের পরেও ক্ষুধা মেটেনি। বাঙালিদের দ্বারা ঐতিহাসিক নিপীড়নের কথাও মনে করিয়ে দেন এই তরুণ। সাঁওতালদের খড়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রাবণের প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও সাঁওতাল পাড়া পুড়তে থাকে, আর সেই পোড়া ছাই বাংলা কবিতার চোখে পড়ে না বলেই তার অভিযোগ।
কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ সাঁওতাল বাড়ির মাটির দেয়ালে আঁকা আলপনার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে যায়। কিন্তু সেই আলপনা আসলে সাঁওতালদের হারিয়ে যাওয়ার বেদনার এক নীরব নকশা কি না, তা তারা ভাবেন না।
সাঁওতাল মায়েদের চোখে সারা বছর অশ্রু থাকে, বাবাদের বুকে ক্ষতের দাগ মানচিত্রের মতো ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষতই তাদের কাছে অপহৃত দেশের প্রতীক। রেড ইন্ডিয়ানদের মতো ট্র্যাজেডি সাঁওতালদেরও সঙ্গী, কিন্তু বাঙালি সমাজ তা বুঝতে চায় না।
সাঁওতালদের দেবতা মোরগটি ধরিয়ে নিয়ে জবাই করে খাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। সাঁওতাল শিশুরা শিশুপার্কে খেলতে যায় না, আকাশে ওড়ে না; ক্ষুধার তাড়নায় মাঠে খরগোশের পেছনে ছোটে। রাতের সাঁওতাল পাড়ায় মাদলের সেই হাহাকার শুনতে পাবে কি তরুণ কবিরা—এমন প্রশ্নই তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।
তিন দিন আগে শাক তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক সাঁওতাল কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত লাশ শ্রাবণের জলভরা খালে ভেসে ওঠার ঘটনাও উল্লেখ করেছেন তিনি, যা সাঁওতাল নারীদের প্রতি সহিংসতার এক করুণ দৃষ্টান্ত।




