গবেষক ও সাংবাদিক তাহমিদাল জামি একটি লেখায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জুলাইয়ের স্মৃতি শহীদদের কবরে ও জীবিত জনগণের অপূর্ণ স্বপ্নে নিহিত রয়েছে। বর্তমানে এই স্মৃতিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। কেউ গাদ্দারির অভিযোগ তুলছে, কেউ প্রতিবিপ্লবের কালক্রম হিসাব করছে, আবার কেউ জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে।

লেখক মনে করেন, জুলাইয়ের উত্তরস্মৃতিতে অপ্রাপ্তি ও খণ্ডিত স্মৃতি থাকলেও যা রয়ে গেছে তা হলো জনগণের রাজনৈতিক বাসনার রেশ। গণ-অভ্যুত্থান আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদী কারণ কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ বিগত দুই-তিন দশকে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সস্তা ও বদলিযোগ্য শ্রমের জোগানদার হয়ে ওঠায় সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্রতর হচ্ছিল। গত দেড় দশকের চাকরিহীন প্রবৃদ্ধির বাস্তবতা লাখ লাখ বেকার ও বিপন্ন তরুণের অর্থনৈতিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছিল। প্রেমময় সংসার রচনার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছিল অর্থনৈতিক বিপন্নতা ও বঞ্চনায়।

তাহমিদাল জামি তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, ক্রমপুঞ্জিত বৈষম্য ও বঞ্চনার বাস্তবতায় কায়েমি ব্যবস্থার কাছে বড় ঝুঁকি ছিল জনগণের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব। এই কর্তৃত্ব দমন করতে ক্রমেই একচ্ছত্র নির্বাহী ক্ষমতা প্রধান প্রকরণ হয়ে ওঠে। নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব ও আইনি বিচার পাওয়ার অধিকার তখন উপেক্ষিত হয়। তবে তিনি মনে করেন, একরোখা ক্ষমতা নিজের বিস্তার ঘটাতে পারে না, বরং নিজেই নিজের বিনাশের শর্ত রচনা করে। ২০১৩ সালের শাহবাগ-হেফাজত পর্বের পর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, শ্রমিকদের মজুরির আন্দোলন, ধর্মবাদী গোষ্ঠীর আকিদাকেন্দ্রিক বিক্ষোভ, নারীবাদীদের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন ও তরুণদের জীবিকার আন্দোলন—সংগঠিত ও অসংগঠিত নানা বর্গের এসব আন্দোলন রাস্তা ও ডিজিটাল মাধ্যমে পাকাচ্ছিল।

লেখক উল্লেখ করেছেন, ক্ষমতার প্রয়োগকৃত ভাষা জনমনে ক্রমেই ফাঁপা হয়ে উঠছিল। সাদিক অ্যাগ্রোর মহাছাগল কিংবা ক্ষমতাবানদের ফোনালাপে ধর্ষণকামিতার বরাত মানুষের কাছে ক্ষমতার রসিকতাকে উন্মোচিত করে দিয়েছিল। বিচারহীন সমাজে বিক্ষোভ বলি ও বিসর্জনে পরিণত হয়। জুলাইয়ের আগে একের পর এক বয়কট, নিষিদ্ধকরণ, উন্মোচন ও কেলেঙ্কারি দ্রুত বেগে আসতে থাকে। সমাজের শিরায় শিরায় দানা বাঁধা অসন্তোষ নানা উপসর্গ হয়ে মাথাচাড়া দিচ্ছিল। স্তূপীকৃত বারুদ কখন কীভাবে জ্বলে উঠবে, তার আন্দাজ কারও ছিল না।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের ওপর আঘাতের ফলে সেই আগুন জ্বলে ওঠে। আবু সাঈদের দুই হাত ছড়ানো আত্মদানের পর মুগ্ধের 'পানি লাগবে' আর ডিজিটাল স্ক্রিনে ফাইয়াজের অপাপবিদ্ধ মুখ মানুষের হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বহু ঘটনা ঘটলেও এবার সেই জল্লাদি অরাজনৈতিক মধ্যবিত্তের সন্তানকেও নিধনযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে। এর ফলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার নিরাপদ তন্দ্রায় একচ্ছত্র নির্বাহী কর্তৃত্ববাদের প্রতি নগরবাসী ভদ্রলোকের যতটুকু সম্মতি ও আনুগত্য ছিল, তা ভেঙে যায়।

জুলাইয়ের আকার নেওয়ার বনিয়াদ বিদ্যমানের গর্ভেই নিহিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তাহমিদাল জামি। কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার শাসনের মধ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামো সম্ভব ছিল না। জুলাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেনি, কোনো সর্বদলীয় সমন্বয় পরিষদও হয়নি। বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়কেরা সামনে ছিলেন, কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, মাদ্রাসার তালেবে এলেম, শহরের শ্রমিক ও বেকার কিংবা চাকরিজীবী-সুশীল মধ্যবিত্ত যে রাস্তায় নেমে এসেছিল, তা কোনো নেতার নির্দেশে নয়। আন্দোলনটি সম্প্রসারিত হয় মাথাহীন অনুভূমিকভাবে। তাই সুনির্দিষ্ট কোনো নেতৃত্বের দাবির চেয়েও জুলাইয়ের রাজনৈতিক বাসনাকে খুঁজতে হবে নানা আলাপে, দেয়ালচিত্রে ও স্লোগানে।

'লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না' স্লোগানটি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারকে ধারণ করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পিতৃতান্ত্রিক মৌরসিপাট্টার দাবিকে নাকচ করে। লেখক মনে করেন, এই স্লোগান শুধু পরিবারতন্ত্র নয়, গোষ্ঠীতন্ত্র ও পিতৃতন্ত্রকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। অনুভূমিক আন্দোলন হওয়ায় জুলাইয়ে সবাই অভিন্ন বোঝাপড়া নিয়ে শরিক হয়নি। 'তুমি কে? আমি কে?/ রাজাকার রাজাকার' স্লোগান দিয়েই জুলাইয়ে শরিক নানা পক্ষের মতভেদ প্রথম তীব্র হয়ে ধরা পড়ে। এই স্লোগানের প্রথম ব্যবহার ছিল কূটাভাস-পরিহাসের; একাত্তরের নানা চিহ্নকে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে আত্মস্বার্থে ব্যবহার করেছিল, সেই তকমাবাজিকে অচল করে জনযুদ্ধের গণতান্ত্রিক শাঁসকে পুনর্বহাল করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু উল্টো দিকে একাত্তরবিরোধী একটি গোষ্ঠী এই স্লোগানকে আত্মশনাক্তি হিসেবেও ব্যবহার করেছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা যোগ করে 'কে বলেছে? কে বলেছে?/ স্বৈরাচার স্বৈরাচার'।

লেখক বলেছেন, অনুভূমিক ও বহুবর্গীয় জুলাইয়ে শরিক নানা পক্ষ রাজনৈতিক বাসনার ভিন্ন ভিন্ন ব্যঞ্জনা নিয়ে সমবেত হয়েছিল। জাস্টিস বা ইনসাফ, সংস্কার ইত্যাদি পদের টানে নানা পদের জনতা সমবেত হয়েছিল। জনগণের এই গঠন অনিবার্যভাবেই একটি গাঠনিক বর্জনের মধ্য দিয়ে রচিত হয়। জুলাই জনগণের ঐক্য ৫ আগস্ট একটি বিসর্জনের (স্পারাগমোস) মধ্য দিয়ে পরিণতি পায়। বহু পদের জনতার এক সমতলে সমবেত হওয়ার কারণে উত্তর-ভাবাদর্শবাদী ঘটনা হিসেবে জুলাইয়ের চরিত্র শনাক্ত করার চেষ্টা হলেও সেই সাময়িক ঐক্য কোনো গাঠনিক রাজনৈতিক প্রকল্প তৈরি করতে পারেনি। ফলে দুটি বিতর্ক দাঁড়ায়। প্রথমত, এটি বিপ্লব নাকি গণ-অভ্যুত্থান? বিপ্লবের শর্ত হলো সমাজে শ্রেণিসম্পর্ক ও কায়েমি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, যা জুলাইয়ে ঘটেনি। দ্বিতীয়ত, সমবায়ের সীমা নিয়ে বিতর্ক। 'গাছের পাতা ছেঁড়া নিষেধ' ছিল জুলাইয়ের তরুণদের বহুত্ববাদী সমবায়ী ভবিষ্যতের স্বপ্নের নমুনা। অথচ পরক্ষণেই অন্তর্ভুক্তির পরিসীমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যে বহুবর্গীয় জনতা এক সমতলে শরিক হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকেই পাতা ছেঁড়া শুরু হয়—নারী, তরিকতপন্থী, বাউল, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, শাহবাগি—এ রকম নানা নামে মানুষকে নিশানা করা শুরু হয়।

তাহমিদাল জামি বলেন, জুলাইয়ের শরিকদেরও খারিজ করা শুরু হয়, বলা হয় অনেকে অনিচ্ছুকভাবে অংশ নিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, জুলাই বেগবান ও বিজয়ী হওয়ার পরে যারা এর বড় অংশ দাবি করেছে, তাদের অনেকেই আন্দোলনটির ব্যাপারে গোড়াতে নেতিবাচক ছিল। এভাবে জুলাইয়ের অংশকে কেন্দ্রীভূত করে একচেটিয়া করার চেষ্টা শুরু হয়। আমজনতা তবু জুলাইয়ের দাবি ছাড়েনি। জুলাইয়ের ঘনীভূত সর্বজনীন শক্তির তেজে নিজ নিজ দাবিতে মুখর হন সমাজের নানা বর্গের মানুষ। বিপরীতে জুলাইয়ের অংশকে সীমিত করে সমাজে আরও নিবিড় দমনবাদ জারি করার চেষ্টা দেখা যায়। নারী, পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীরা মারধরের শিকার হন। সবচেয়ে সুসংগঠিতভাবে আক্রমণ করা হয় দেশের মাজারগুলোতে। মাকাম সংস্থার জরিপে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়। একের পর এক ইস্যু তৈরি ও মেরুকরণ চলতে থাকে। আরিফুজ্জামান রূপম, হৃদয় রবি দাস, তৌহিদুল ইসলাম, পীর শামীম রেজার মতো মানুষ নিহত হন। সমাজের সংকটের দায় ব্যক্তি বা বর্গের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বলিতন্ত্র চালু করা হয়।

লেখক মবতন্ত্র প্রসঙ্গে বলেন, বিচ্ছিন্ন নানা গোষ্ঠী মিলে একটা জনগণ হয়, কিন্তু আলাদাভাবে কোনো গোষ্ঠী জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধি নয়। জুলাইয়ে জনগণের কর্তৃত্বের প্রশ্ন স্পষ্ট হওয়ার পরপরই তা গোষ্ঠীবাদী মবের দাপটে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে যা দেখা গেছে তা নিছক 'মব' নয়, সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী একের পর এক দেশজুড়ে মাজারসহ নানা বর্গকে নিশানা করে জুলুম চালিয়েছে, আর গোষ্ঠীর এই বেআইনি নির্বাহী কর্তৃত্বে কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত বাধা দেয়নি। এই পরিস্থিতিকেই মবতন্ত্র বলা যেতে পারে।

জুলাইয়ের ঐকমত্যের জায়গা ছিল 'নতুন ব্যবস্থা'—'বহুত দিন হাইয়ো, আর ন হাইয়ো' স্লোগান এই বাসনারই অভিব্যক্তি। কিন্তু ব্যবস্থার বদলের মানে কী—সাংস্কৃতিক কিছু চিহ্নের বদল, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা সংবিধানে অদলবদল, নাকি বস্তুগত সম্পর্কেরও বদল—এই প্রশ্নের সমবেত মীমাংসা করতে পারেনি জুলাই-উত্তর রাজনৈতিক শক্তিগুলো। আমজনতার প্রত্যাশা ছিল জান-জীবিকা-জবানের অধিকার প্রতিষ্ঠা। সমাজে বিচার বা ইনসাফ যথেষ্ট নয়, বরং আদল ও ইহসানও প্রয়োজন হয়। হকার, পরিবহনশ্রমিক, পোশাকশ্রমিক, জলবায়ু-পর্যুদস্ত উপকূলবাসী, প্ল্যাটফর্ম ক্যাপিটালিজমের কর্মী, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার গরিব ছাত্র, নিম্নবর্ণ ও নিম্নবর্গের মানুষ—তাদের জন্য কী প্রতিশ্রুতি আনল জুলাই-উত্তর সময়? তিনি মনে করেন, যেকোনো বিপ্লবের গর্ভেই ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা সুপ্ত থাকে।

একদিকে কায়েমি শক্তি জুলাইয়ের একটা অংশকে কবজা করে ফেলে, অন্যদিকে জনপরিসরে গোষ্ঠীতান্ত্রিক জবরদস্তির কারণে সমাজের বড় অংশ রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে যায়। ফলে সংস্কার বা সংবিধানসহ নানা প্রশ্নে ভবিষ্যৎমুখী গণ-ঐক্য রচনার সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্বাচনের কিছুদিন আগে তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলে সব পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও বিচার দাবি করা হলেও এর পরপরই দেশের কিছু গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক নির্মূলবাদী তৎপরতার চূড়ান্ত নমুনা দেখা যায়। জুলাইয়ের সম্ভাবনার বড় অংশ এভাবে হাতছাড়া হয়ে যায়।

তাহলে জুলাইয়ের স্মৃতিকে জারি রাখার উপায় কী? তাহমিদাল জামি মনে করেন, জনগণ নিজেই সশরীরে ঘটনার মহিমার শরিক। ফলে জনগণের পক্ষ থেকে ঘটনার ফেটিশিকরণের বদলে মামুলিকরণ করাই জরুরি। উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অল্পদিন পরেই 'ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়' স্লোগান উঠেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর রফিক আজাদের 'ভাত দে হারামজাদা' কিংবা আবু সালেহর 'ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা/ রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা' ইত্যাদি উচ্চারণে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী গণমুখরতার আন্দাজ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, জনগণের বাইরে মহাঘটনাকে বিচ্ছিন্ন চেতনার চিহ্নতন্ত্র করে মহিমান্বিত করে রাখা যায় না। ঘটনার অনন্ত প্রলম্বন বা মেকি পুনরাভিনয়ও সফল হয় না, বরং জনগণের ব্যবহারিক জীবনের আটপৌরে প্রয়োজনেই ঘটনার তাৎপর্য জ্যান্ত থাকতে পারে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভবিষ্যৎ নিহিত আছে এই আটপৌরে তরজমায়। জুলাই ছিল চলমান বিশ্ব-ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ আলামত। পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রান্তদেশে, বিপন্ন-বঞ্চিত-বিক্ষিপ্ত তরুণদের নতুন ধরনের সক্রিয়তার ডাক দিয়ে গিয়েছিল জুলাই।