সম্প্রতি অন্তর্জালে প্রকাশিত একটি আবেগঘন লেখায় উঠে এসেছে এক শিক্ষার্থীর জীবনের আকস্মিক পরিসমাপ্তির হৃদয়বিদারক বর্ণনা। সেখানে বর্ণিত হয়েছে, কীভাবে প্রতিদিনের ক্লাস, ল্যাব ও পড়াশোনার পরিচিত ছক হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে, আর সেই রুটিনের প্রতিটি মুহূর্ত চিরতরে থেমে যায়।
লেখক উল্লেখ করেন, ওই শিক্ষার্থী হয়তো দীর্ঘদিন ধরে একই পথে হেঁটেছেন, পছন্দের চায়ের দোকানে কাটিয়েছেন অসংখ্য বিকেল ও সন্ধ্যা। সম্ভবত একই ক্লাসরুমে বসে ক্লান্ত দুপুরে তন্দ্রায় জড়িয়েছেন, একই কাপ থেকে চা খেয়েছেন এবং একই বেঞ্চে বসে সময় কাটিয়েছেন—যা ছিল তার নিত্যদিনের অংশ। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই সবকিছু থেমে যায়, আর মন জুড়ে আসে দমবন্ধ বিষণ্নতা।
সকাল সাড়ে সাতটার ঘুমভাঙা অ্যালার্ম, আটটার ক্লাসের প্রস্তুতি, প্রফেসরের আগে পৌঁছানোর সময়ের হিসাব—এসব আর কোনোদিন করতে হয়নি। ভোর পাঁচটার অ্যালার্ম, নয়টার বাধ্যতামূলক উপস্থিতি, জমে থাকা ল্যাব রিপোর্ট—সবকিছুর জটিল হিসাব-নিকাশ এক মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কতটুকু লিখলে ল্যাবে যাওয়ার ন্যূনতম সময় বাঁচবে, কীভাবে কিছুটা ব্যতিক্রমী হওয়া যায়—এমন সব চিন্তাভাবনা যে শিক্ষার্থীর মনের গভীরে ছিল, তা আর কখনো বাস্তবায়নের সুযোগ পায়নি।
পরিশেষে অন্তর্জালে প্রকাশিত সেই বার্তায় বলা হয়—"এরপর আর ক্লাসে ফেরা হলো না, আর ক্লাসে ফেরা হলো না..."। এই বাক্যটি শিক্ষার্থীর চিরবিদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পাঠকদের হৃদয়ে গভীর শোক ও বিষণ্নতার ছায়া ফেলেছে। লেখাটি পড়ে অনেকেই শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন জীবনের সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করেছেন, যা এখন শুধু স্মৃতির অংশ।




