বইপড়ায় মনোযোগী একজন সাধারণ পাঠক লিখেছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবার লেখালেখিতে ফিরেছেন। কথাসাহিত্যিক মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর সংকলন ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’ তাঁকে তাড়িত করেছে। ফ্ল্যাপের বর্ণনা অনুযায়ী, শহরের প্রান্তিক মানুষের জন্ম, জীবন, মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে শহর নিজেই বড়ো হয়েছে। তাদের অজানা-অদৃশ্য স্তরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে পুরো শহর। চাকরিচ্যুত করপোরেট কর্মী থেকে শুরু করে বেতন না পাওয়া শিক্ষক, ব্র্যান্ডপ্রেমী ব্যবসায়ী কন্যা, ভালোবাসার সন্ধানী জুতাশ্রমিক, বহুগামী মানুষ, উচ্চশিক্ষিত জীবনসঙ্গীপ্রার্থী—সবাই এই বইয়ের চরিত্র। ১৫টি গল্পের এই সংকলনে স্থান পেয়েছে পরিচয়সংকটে থাকা কৃষক সন্তান, সন্তানপ্রত্যাশী গৃহবধূ, ইয়াবা ব্যবসায়ী, বিদেশিনির্ভর মৌসুমি ব্যবসায়ী, অভিযানপিপাসু যুবক, ক্ষুদ্রঋণে জর্জরিত মা, আশ্রয়হীন পাগল, গৃহকর্মী, ড্রাইভার, গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকের গল্প।

লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে গল্পগুলো রচিত বলে মনে করেন পাঠক। প্রতিটি গল্প পড়ার পর তিনি কিছুক্ষণ বিষয়বস্তু আত্মীকরণ করে নিতেন। গল্পগুলোর নামকরণ সাদামাটা—‘অপরিচিত কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাই’, ‘বেসরকারি’, ‘স্বপ্ন সংক্রমণ’, ‘অ্যালোপেসিয়া আরেয়াটা’, ‘শিক্ষকের বৌ’, ‘উচ্চবংশের লোক’, ‘আইলাইনার’, ‘পাগলের বৌ’, ‘ঝরাপাতার বন্ধন’, ‘প্রডিউসারের জন্মদিন’, ‘সাদা লঞ্চ’, ‘রানীপছন্দ’, ‘প্রাণীবিদের জীবনবোধ’, ‘পাখির গু’, ‘পারুল আপা’। পাঠকের মতে, বর্তমানে জাদুবাস্তবতা ও পরাবাস্তবতার মোহ থেকে বেরিয়ে নিজেদের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান বুঝে গল্প বলা জরুরি। এই বইয়ের চরিত্রগুলো আমাদের চেনা-জানা, কিন্তু উন্নয়নের নামে আমরা তাদের অবজ্ঞা করি।

পাঠক আরও উল্লেখ করেন, শহরের এসব মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হলেও আমরা তাদের গল্প জানতে চাই না। ফেসবুকের অলীক জীবনে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছি। লেখককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গুডরিডসে মাত্র তিনটি রিভিউ দেখে বোঝা যায়, আমরা নিজেদের দৃষ্টি দিয়ে না দেখে উন্নত বিশ্বের চশমা দিয়ে দেখি। প্রচ্ছদ দেখে তাঁর মেয়ে মুগ্ধ হয়েছে বলে জানান, যার জন্য ধন্যবাদ দেন তানিয়া তাবাসসুমকে। শেষে বইটির বহুল পঠন কামনা করেন তিনি।