দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর দেশে ফিরে প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি এক প্রবাসী। সাধারণত দেশে ফিরে অনেক প্রবাসী পেটের পীড়ায় ভোগেন, তবে তার ক্ষেত্রে ঘটেছিল ভিন্ন। বুকে প্রচণ্ড গ্যাস জমে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। প্রথমবার এমন হলে মিরপুর ১ নম্বরে একটি ফার্মেসিতে গিয়ে ডাক্তারের খোঁজ করেন, কিন্তু সেখানে কেউ ছিলেন না। ফার্মেসির দোকানদার তাকে বাইরে যেতে বলেন, কারণ অসুস্থ অবস্থায় দোকানের ভেতরে কিছু হলে পুলিশ জড়িয়ে ফেলতে পারে। পরে একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। পথে রাস্তা থেকে আদা কিনে লবণ দিয়ে চিবাতে চিবাতে যান—পরে তিনি বুঝতে পারেন সেটিই উপকার করেছিল। হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার তাকে অক্সিজেন দেন এবং ইসিজি ও অন্যান্য পরীক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বলেন তার ছোটবেলা থেকেই হার্টে সমস্যা রয়েছে, যা ইউরোপের কোনো ডাক্তার কখনও বলেননি। ডাক্তার তাকে একটি কার্ড দিয়ে নিজের চেম্বারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে বলেন। তবে প্রবাসী মনে করেন ডাক্তারের কথা শুনে মনটা তেতো হয়ে গিয়েছিল, কারণ তিনি জানেন তার ওই সমস্যা নেই। তবে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে তার অভিজ্ঞতা মোটেও খারাপ নয়।

দেশে গেলে প্রথম কাজ হয় সেলুনে গিয়ে মাথা মালিশ করা। আধা ঘুম-আধা জাগরণের মধ্যে কেউ মাথা, হাত, কাঁধ মালিশ করে দিচ্ছে—এ অভ্যাস তিনি প্রয়াত বন্ধু নাজিমের কাছ থেকে শিখেছেন। বিদেশে এই শারীরিক আরাম পাওয়া যায় না। ভারতীয় উপমহাদেশের সেলুনের এই বিরল আরাম পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কি না, তার জানা নেই। তবে এখন দেশে গেলে সমস্যায় পড়েন—অধিকাংশ সেলুনে মেশিন দিয়ে মেসেজ করা হয় এবং অনেকে হাতে মালিশ করতে চান না। কারণ, একজন সেলুনকর্মী তাকে বলেছিলেন, যে মালিশ করবে, তার শরীরে রোগীর সব বিষ ব্যথা চলে আসবে। তাই তিনি খুঁজে বের করেন আরেকটি সেলুন। বেশ কয়েকবার এমন হয়েছে, ধরে মারে আসলে...তবুও কোথাও সেট হতে পারেন।

অন্য সমস্যা হলো কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন। ছোটবেলার বন্ধুরা সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। বড় বেলার বন্ধুরাও তাই। দেখা হলেই আধা কাপ চা খাইয়ে বিদায়। কেউ কেউ জড়িয়ে ধরে রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে যান, কিন্তু গলাগলি করে দুই বন্ধু ঘুমিয়ে গল্প করার মতো সময় নেই। নতুন বন্ধু বানাতেও ভয় পান, কারণ আমরা সবাই খুব ভালো—এই ভয় কাজ করে।

একবার একজন নেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। প্রবাসী পরিচয় কাজে লেগেছে। নেতা ভারতের অপারেশন করতে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, কিন্তু ফিরে এলে লোকজন আসতে থাকবে আর ইনফেকশন হতে পারে—এই ভয়ে ভীত ছিলেন। তিনি নেতাকে একটি উপায় বাতলে দিলেন: বিছানায় শুয়ে থাকবেন এবং পাশে জায়নামাজ রাখবেন। যে দেখতে আসবে, তাকে বলবেন, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে মোনাজাত করে বলতে বলবেন যেন আল্লাহ তার দুই দিনের হায়াত বাড়িয়ে দেন। তিনি মনে মনে ভাববেন যে আল্লাহ কবুল করেছেন। নেতা বললেন, তাহলে আপনি বিদেশে কেন? আমার সঙ্গে থাকুন। তিনি হেসে উঠলেন।