রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় পানি কেনার জন্য মোটরসাইকেল থামিয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী। তাঁর ছোট ছেলেও ছিল সঙ্গে। সেসময় পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই বাবা-ছেলেকে জিম্মি করে পাশের একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে র‍্যাব-৪ জানিয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‍্যাব-৪ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর নাম মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি সবুজবাগের বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী। গত ২ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজবাগে ফিরছিলেন। কল্যাণপুরে দারুসসালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকানে পানি কিনতে থামেন। পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের জিম্মি করে পাশের একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়।

সেখানে মাহফুজুর রহমানকে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাঁর ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও মুঠোফোন তল্লাশি করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে স্বজনদের ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর খালাতো ভাইসহ পরিচিত কয়েকজনের সহযোগিতায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাঁর মুঠোফোন, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল রেখে বাবা-ছেলেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়ার আগে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী দারুসসালাম থানায় একটি মামলা করেন। র‍্যাব-৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গত শনিবার রাতে দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. বিল্লাল (৩৫), মো. জুম্মন (৩০) ও শেখ মো. ফয়সাল (৩৫)। তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, লাঠি ও সাউন্ড সিস্টেম উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজন দারুসসালাম, শাহ আলী, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মাহফুজুর রহমান মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানানো হয়।