অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যবর্তী ক্ষুদ্র অথচ ধনী রাষ্ট্র লিশটেনস্টাইনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক ডাটাবেজে সাইবার অপরাধীরা অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির সরকারের বরাতে জানা যায়, কোম্পানি, ফাউন্ডেশন ও ট্রাস্টের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি ‘অর্থনৈতিক সুবিধাভোগীদের নিবন্ধন’ (রেজিস্টার অব ইকোনমিক বেনেফিসিয়ারিজ) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার (৩০-৩১ জুলাই) রাতভর চলা এই হামলায় আনুমানিক ৩১ হাজার মানুষের তথ্যে অাননুমোদিত প্রবেশ ঘটে।

সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই অনাকাঙ্ক্ষিত এই প্রবেশের বিষয়টি নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গেই তথ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং পুরো সিস্টেমটি অফলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই গোপনীয় তালিকাটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো।

মাত্র ৪০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হলো এর আর্থিক খাত। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সপ্তাহান্তেই একটি বিশেষ সংকটকালীন ইউনিট গঠন করেছে লিশটেনস্টাইন সরকার। ইউনিটটি হামলার উৎকেন্দ্র ও প্রভাব নিয়ে ব্যাপক তদন্তে নেমেছে। ফরচুন ম্যাগাজিনে মূলত এই ঘটনার সংবাদ প্রথম প্রকাশিত হয়।

এই হামলাটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অন্দরের গোপন তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে আবারও প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাল। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপন করার জন্য যেসব ট্যাক্স হ্যাভেনের ওপর নির্ভর করেন, লিশটেনস্টাইন তার মধ্যে অন্যতম। ফলে এই রেজিস্ট্রারের তথ্য ফাঁসের ঘটনা বৈশ্বিকভাবে ধনীদের গোপনীয়তা রক্ষার ভিত্তি নড়বড়ে করে দিতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।