বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন এক নজির স্থাপন করেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে অ্যাসিস্ট করার মধ্য দিয়ে মেসির বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট দশে পৌঁছায়। এর আগে মিসরের বিপক্ষে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকেও অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ফলে ২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ আসরেই অন্তত একটি করে অ্যাসিস্ট করার বিরল কীর্তি গড়েন তিনি—ফুটবল ইতিহাসে যা আর কারো নেই।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। এখন তিনি সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিকও, ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে। মেসির এই দশটি অ্যাসিস্ট প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন সতীর্থের নামে। ২০০৬ সালে জার্মানিতে সার্বিয়ার বিপক্ষে হার্নান ক্রেসপোকে অ্যাসিস্ট করে শুরু। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মেক্সিকোর বিপক্ষে কার্লোস তেভেজের গোলে সহায়তা করেন। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আনহেল দি মারিয়ার জয়সূচক গোলের জোগান দিয়েছিলেন, যা আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যায়।
২০১৮ সালে রাশিয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে এক ম্যাচেই দুই অ্যাসিস্ট করেন মেসি। চার মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মের্কাদোকে এবং ৯৩তম মিনিটে সের্হিও আগুয়েরোকে; ম্যাচটি ৪-৩ হারে। ২০২২ সালে কাতারে তিনি তিন অ্যাসিস্ট করেন—মেক্সিকোর বিপক্ষে এনজো ফার্নান্দেজ, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নাহুয়েল মোলিনা এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজ। প্রতিটি ম্যাচই আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২০২৬ সালে এসে তালিকায় যুক্ত হন রোমেরো ও ম্যাক অ্যালিস্টার। রোমেরোকে অ্যাসিস্ট করে ম্যারাডোনার যুগ্ম রেকর্ড ভাঙেন এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে অ্যাসিস্ট করে সংখ্যাটি দশে উন্নীত করেন। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তিনি সিদ্ধহস্ত। বিশ্বকাপের ছয় আসরে দশ ভিন্ন সতীর্থকে অ্যাসিস্ট করা বিশ্ব ফুটবলে এক মহান ও বিরল অর্জন।




