কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক নারীকে হত্যার পর তাঁর লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৯টি পৃথক প্যাকেটে রাখা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পেছন থেকে এসব প্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে লাইলী আক্তার নামে এক ভাড়াটিয়াকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ছোট আলমপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। সম্প্রতি বাড়ির একটি টিনের ঘর প্রায় ১৫ দিন আগে লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। লাইলী দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী এবং তিনি স্বামীসহ ওই বাড়িতে থাকার কথা ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিহতের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে আসেন। কিন্তু মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি কাছে গিয়ে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির আশপাশে প্রচুর মানুষ জড়ো হতে থাকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবক এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লাইলী তার জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম বলেছেন; তাঁদের সম্পৃক্ততা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, একা থাকার সুযোগে ফরিদাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ ঘটানো হতে পারে।




