যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক এক জরিপে। দেখা যাচ্ছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক (৪৯ শতাংশ) এখনও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ, অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এটি ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। ইন্ডিড হায়ারিং ল্যাবের অর্থনীতি পরিচালক লরা উলরিচ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালি গঠনের প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করছেন, এই তথ্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তিনি ফরচুনকে বলেন, ‘আপনাকে এটি একটি ভেন ডায়াগ্রাম হিসেবে ভাবতে হবে। ৪৯ শতাংশ বাড়িতে থাকে, আর আরও ৪৭ শতাংশ তাদের পরিবারের বাইরের কারো কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পায়। এর মানে বিপুল সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এখনও পিতামাতার আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।’ জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৬ শতাংশও তাদের পরিবারের বাইরে থেকে আর্থিক সাহায্য নিচ্ছেন। উলরিচের মতে, এই হার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা শুধু কলেজ স্নাতক তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কদেরও অন্তর্ভুক্ত করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গৃহস্থালি গঠনের গতি ধীর হয়ে গেলে তা বিবাহের বয়স, প্রথম সন্তান ধারণের বয়স ও উর্বরতার হার কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি গৃহক্রয়ও কমে যায়, যা স্থানীয় বিদ্যালয়ের ভর্তি ও আবাসন বাজারকে প্রভাবিত করে। উলরিচ আরও বলেন, এই প্যাটার্নটি আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং তরুণদের প্রথম চাকরি পাওয়ার অসুবিধার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সালে মহামারীর সময় সরকারি প্রণোদনা পেমেন্টের কারণে ৭৮ শতাংশ পরিবার ‘ঠিকঠাক চলছে’ বা ‘আরামে আছে’ বলে জানালেও, পরবর্তী বছরগুলোতে তা ৭২-৭৩ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উলরিচের মতে, এই সংখ্যা প্রকৃত অর্থনৈতিক শক্তি নয়, বরং একটি ব্যতিক্রম। তিনি আরও বলেন, আর্থিক স্বচ্ছলতার পতন মূলত উচ্চ বিদ্যালয়ের ডিপ্লোমাবিহীনদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ডিপ্লোমাধারীরা প্রায় স্থিতিশীল রয়েছেন। এটি ‘কে-আকৃতির’ অর্থনীতির প্রমাণ, যা প্রজন্মগত ও আয়ভিত্তিক বৈষম্যকে নির্দেশ করে। এই প্রবণতা আগামী বছরগুলোতে অভিবাসন প্যাটার্ন ও আজীবন আয়ের উপরও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তরুণরা যারা বড় শহরে প্রথম চাকরি নেওয়ার আশা করেছিল, তারা এখন নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি অবস্থান করছে। উলরিচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তগুলি মাইক্রো স্তরে পরিবার ও গৃহস্থালির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, কিন্তু ম্যাক্রো স্তরে গৃহক্রয়, উর্বরতার হার এবং অন্যান্য বিষয়কে প্রভাবিত করে। যখন বড় শতাংশ মানুষ বাড়িতে থাকে, তখন এই প্রভাবগুলি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’ ওয়েলস ফার্গোর একটি আলাদা জরিপেও দেখা গেছে, ১৮-২৮ বছর বয়সী জেনারেশন জেড সন্তানদের ৬৪ শতাংশ পিতামাতা এখনও তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন, যার মধ্যে ভাড়া ও ফোন বিলের মতো প্রয়োজনীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত।