বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক এসকে হাইনিক্স তাদের মার্কিন শেয়ার অফারিংয়ের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহে সাফল্য পেয়েছে। কোম্পানিটি ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৯.৮ বিলিয়ন পাউন্ড) সংগ্রহ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সর্বকালের সর্বোচ্চ তালিকাভুক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অফারিংয়ের প্রতি বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে; উপলব্ধ শেয়ারের তুলনায় চাহিদা সাত গুণেরও বেশি ছিল বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা ১৭৭.৯ মিলিয়ন আমেরিকান ডিপোজিটরি শেয়ার ১৪৯ ডলার দরে বিক্রি করেছে। এই শেয়ারগুলি শুক্রবার নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু করবে। প্রতিটি আমেরিকান ডিপোজিটরি শেয়ার সিওলে লেনদেন হওয়া সাধারণ শেয়ারের এক-দশমাংশের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছে এসকে হাইনিক্স। এই অফারিং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিদেশি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেনদেন না করেই সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কেনার সুযোগ করে দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের চাহিদায় অভূতপূর্ব উত্থানের ফলে এসকে হাইনিক্সের বাজার মূল্য গত মে মাসে দেশীয় বাজারে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্সের সাথে মিলে এটি কোসপি সূচককে একই সময়ে ৭০ শতাংশের বেশি উপরে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। এআই খাতে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ফলে সমগ্র মেমোরি চিপ শিল্পই ব্যাপক উৎসাহ পেয়েছে। এসকে হাইনিক্সের প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স এবং মাইক্রনের শেয়ারমূল্যও সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
এআই বুমের জেরে শেয়ারবাজারে তহবিল সংগ্রহের জন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। গত মাসেই স্পেসএক্স তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তালিকাভুক্তিতে পরিণত হয়েছিল। অন্যদিকে, এআই ডেভেলপার অ্যানথ্রপিক এবং ওপেনএআই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়নে পাবলিক হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স অধ্যাপক জায়ওন চোই মনে করেন, এই তালিকাভুক্তি এসকে হাইনিক্সকে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় কম প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য বিনিয়োগে সহজ প্রবেশাধিকার দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা এই তালিকাভুক্তিকে মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারকদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ অব্যাহত থাকবে কিনা তা যাচাই করার একটি 'নির্ণায়ক' হিসেবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
আগামী বছরগুলিতে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ তৈরি এবং এআই সক্ষমতা উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসকে হাইনিক্স। হানিয়াং ইউনিভার্সিটির ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক ইউন ইয়ংজিনের মতে, দেশটির সরকার সম্ভবত এসকে হাইনিক্সের মার্কিন তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের উপর নির্ভর করছে, যা কোম্পানিটির দেশীয় বিনিয়োগে সহায়তা করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে নাসডাকে তালিকাভুক্তির কিছু ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষত যদি বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করে।
উল্লেখ্য, গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এসকে হাইনিক্স এবং স্যামসাংয়ের সাথে অংশীদারিত্বে ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে এসকে হাইনিক্স এবং স্যামসাং উভয়েরই বাজার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি, যা এনভিডিয়া, অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং অ্যালফাবেটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে তাদের অবস্থানকে সুসংহত করেছে।




