বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় গাছ কাটার কারণে শামুকখোল পাখির প্রায় ৭০-৮০টি বাসা ধ্বংস হয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে ব্যাটারিচালিত হাইড্রোলিক করাত দিয়ে পিতরাজ, জলপাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাতটি বড় গাছ কাটা শুরু হয়। গাছগুলোর মগডালে থাকা বাসাগুলোতে ডিম ও ছোট ছোট ছানা ছিল, যা গাছ কাটার সময় মাটিতে আছড়ে পড়ে শতাধিক ডিম ভেঙে যায় এবং অনেক ছানা মারা যায়।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কেটে ফেলা গাছগুলোর নিচে ডালপালা ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাখির ভাঙা বাসার অংশ। কোথাও ডিমের খোসা, আবার কোথাও নিথর পড়ে থাকা ছোট ছোট ছানা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গাছগুলোর মগডালে শামুকখোলসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছিল। গ্রামবাসীরা জানান, স্থানীয় আজাহার আলী ও তাঁর ভাইবোনেরা ১৬ শতক জমিতে থাকা সাতটি বড় গাছ একজন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন, যিনি শনিবার সকাল থেকে গাছ কাটা শুরু করেন।
২০১৪ সাল থেকে রামনগর গ্রামটি স্থানীয়ভাবে 'পাখি কলোনি' নামে পরিচিত। উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের প্রায় ৫০০টি গাছে পাখির বাসা রয়েছে এবং এসব গাছে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পাখির আবাস। শামুকখোল ছাড়াও অন্তত ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখি এখানে বসবাস করে। স্থানীয় কৃষক কাজেম আলী আকন্দ বলেন, পাখির ছানার কিচিরমিচির শব্দে তাঁদের ঘুম ভাঙে এবং পাখির জন্যই গ্রামটি অন্য রকম। পাখি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই গ্রামে আসেন।
পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় জানান, পাখির আবাসস্থল ও পাখি থাকা অবস্থায় অমানবিকভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে পাখির কলোনিতে গাছ সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিপূরণের কোনো কার্যকর বিধিমালা বর্তমানে নেই। শেরপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন পারভেজ বলেন, গাছ কাটার কারণে শামুকখোলের ডিম ভেঙে যাওয়া ও ছানা মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছেন, তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে গাছ কাটার ক্ষেত্রে তাঁদের সরাসরি বাধা দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা নেই। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




