সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের বাবা। নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো ঘটনা স্বীকার করেছেন। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আটক কামরুল ইসলাম (৩০) দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত শিশুরা হলো মুহাদ্দিস (৭) ও তুলনা (৪)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল কামরুল কৃষিকাজের পাশাপাশি ফেরি করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। সেদিন সকালে শিশুদের দুষ্টুমি ও মারধর নিয়ে কামরুলের স্ত্রী আফরোজা বেগমের সঙ্গে তাঁর মা ফুলজান বিবির তর্ক বাধে। জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে কামরুল জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী মাকে মারধর করেছেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কামরুল খাবারের কথা বললে স্ত্রী গালিগালাজ করেন, যা তাঁকে চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।

ক্ষুব্ধ অবস্থায় বিকেলে কাউকে কিছু না জানিয়ে কামরুল দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। প্রথমে দিরাই শহরে গিয়ে সেখান থেকে সিলেটে চলে যান। সিলেটে দুই দিন থাকার পর গত রোববার সন্তানদের নিয়ে সুনামগঞ্জে ফেরার পথে গাড়িতে তাদের ঘুমের ওষুধ খাওয়ান তিনি। সন্ধ্যায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার বরকাপন এলাকায় পৌঁছে ঘুমন্ত তুলনাকে প্রথমে হাওরে ফেলে দেন। এরপর মুহাদ্দিসকে নিয়ে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে হাওরে ফেলে দেন। রাতে বাড়ি ফিরে তিনি দুই সন্তান নিখোঁজের গুজব ছড়ান এবং থানায় জিডি করেন। স্থানীয়রা তখন ফেসবুকে দুই শিশুর সন্ধান চেয়ে পোস্ট ছড়িয়ে দেন।

মঙ্গলবার বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকায় হাওরে তুলনার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। আজ দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরের গোবিন্দপুর এলাকায় মুহাদ্দিসের লাশ উদ্ধার করা হয়। আজ দুপুরে দিরাই থানা-পুলিশ পেরুয়া গ্রামে গিয়ে কামরুলের সঙ্গে কথা বলে। তাঁর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, দুই শিশুর লাশ সদর থানায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের কারণেই সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।