উত্তরার একটি ঘটনায় ডিবি পরিচয় দিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. রাসেলকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ বুধবার এই নির্দেশ দেন। এর আগে তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ডে ছিলেন তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ লালবাগ বিভাগের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) দেবকুমার আচার্য্য তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলহাজতে রাখার আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির কাছ থেকে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং তা যাচাই-বাছাই চলছে। পাশাপাশি তার সঠিক নাম ও ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার কাজও প্রক্রিয়াধীন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জামিন দেওয়া হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং আসামি পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার এই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রিয়াজ এবং তার অংশীদার আজমির হোসেন আকিজ গ্রুপের ডিলারশিপ ব্যবসার জন্য উত্তরা থেকে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা তোলেন। শেরপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর রাত আটটার দিকে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের সেতুর ওপর পাঁচ-ছয়জন দুর্বৃত্ত ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদের পথ আটকায়। এরপর তাদের গাড়িতে উঠিয়ে চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করা হয়। পরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, প্রাইভেট কার এবং দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। রাত একটার দিকে তাদের ৩০০ ফুট সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

এই ঘটনায় গত ৩ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রিয়াজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে উত্তরা এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা দেবকুমার আচার্য্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিলেন রাসেল। তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও হালুয়াঘাট এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আরও জানান, রিমান্ডে থাকাকালীন আসামি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।