ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হাবিজুর ফকির (৩১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হাবিজুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং গত সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, যখন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের বিদ্যাগঞ্জ খেয়াঘাটের প্রায় ২০০ গজ পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরনের প্যান্টের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কাগজে লেখা মুঠোফোন নম্বরের ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত তরুণের নাম মিরান (২০), তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবের চর এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় মিরানের ভাই বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, নিহত মিরানের মুঠোফোনে কথোপকথনের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর গত রোববার রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবের চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিজুর ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাবিজুর জানায়, গত ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সে তার বসতঘরে স্ত্রীর সঙ্গে মিরানকে 'আপত্তিকর' অবস্থায় দেখতে পায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরানকে হত্যা করার পর রাত একটার দিকে তার দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর হাবিজুরের স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, মুঠোফোনে কথোপকথনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।