ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক এক সহকারীর ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আবদুল বাকের (৪৫), যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় কর্মরত। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, আবদুল বাকের ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ফুলগাজীতে যোগদান করেছিলেন এবং চলতি বছরের ২২ জুলাই সন্দ্বীপে বদলি হন। তবে সন্তানদের পড়াশোনার খাতিরে তিনি সন্দ্বীপে বদলি হওয়ার পরও ফুলগাজী বাজার যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের পাশে তার ভাড়া বাসাটি পরিবর্তন করেননি। সাপ্তাহিক ছুটিতে তিনি নিয়মিত এই বাসায় আসতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানতে পারেন যে, ওই বাসায় সরকারি ত্রাণের চালসহ বিভিন্ন সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে পরিচালিত ওই অভিযানে বাকেরের ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০০ কেজি চাল, ৩২ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ কেজি লবণ, ৩০ কেজি চিনি এবং ৩৩ কেজি মসুর ডাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ৩০ প্যাকেট হলুদের গুঁড়া, ৩২ প্যাকেট মরিচের গুঁড়া এবং ৩১ প্যাকেট ধনিয়ার গুঁড়া জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ত্রাণের প্যাকেটের গায়ে ‘২০২৪-২৫ অর্থবছর’ লেখা ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রাথমিক ধারণা, ২০২৪ সালে ফুলগাজীতে ভয়াবহ বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণগুলোই সম্ভবত এখানে মজুত করা হয়েছিল।

অভিযানটি পরিচালনা করেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ এবং ফুলগাজী থানার উপপরিদর্শক মজিবুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যবৃন্দ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) রাজীব আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের করবেন এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া জানান, উদ্ধারকৃত মালামাল বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং ইউএনও অফিসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি জানান, একজন সরকারি কর্মচারীর বাসায় কীভাবে এই ত্রাণগুলো পৌঁছাল, কতদিন ধরে সেখানে ছিল এবং এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে। অভিযুক্ত আবদুল বাকেরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।