ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো থেকে সম্প্রতি একশোর বেশি শীর্ষ বিজ্ঞানী চাকরি ছেড়েছেন। দেশটির বেসরকারি খাতে প্রথম অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণের সাফল্যের পাশাপাশি এই গণপদত্যাগ মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। শনিবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের নির্মিত 'বিক্রম-১' রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়, যা ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে বেসরকারি অরবিটাল উৎক্ষেপণের সক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু এই অর্জনের মধ্যেই ইসরোর গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীরা সংস্থা ছেড়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ১০০ থেকে ১২০ জন বিজ্ঞানী ইসরো ত্যাগ করেছেন। বেঙ্গালুরুর ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার থেকে প্রায় ৮০ জন এবং তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার থেকে প্রায় ২০ জন গবেষক ইতোমধ্যেই চলে গেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে চন্দ্রযান-৩ মিশনের সিমুলেশন দলের নেতৃত্ব দেওয়া আদিত্য রাল্লাপাল্লির মতো প্রথম সারির বিজ্ঞানীও রয়েছেন।

বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোতে উন্নত বেতন ও গবেষণার অধিক স্বাধীনতাকে বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস নিজেই ইসরোর সাবেক দুই বিজ্ঞানী পবনকুমার চান্দানা ও নাগা ভারত ডাকা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে তারা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত দায়িত্বে রয়েছেন। বেসরকারি খাতে আগামী বছরগুলোতে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের মহাকাশ বিভাগ একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। ১৪ জুলাইয়ের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গগনযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মিশনের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ 'এ' বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন সরাসরি গ্রহণ করা যাবে না। এখন থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এসব আবেদন মহাকাশ বিভাগে পাঠাতে হবে। ২০২০ সালের নভেম্বরে করা একটি প্রশাসনিক সংস্কার এতে বাতিল করা হয়েছে, যে সংস্কারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত পদত্যাগ অনুমোদনের ক্ষমতা মহাকাশকেন্দ্রের পরিচালকদের দেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিচালকরা কোনো আবেদন গ্রহণ করতে পারবেন না।

ইসরো চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন অবশ্য এই পদত্যাগকে 'স্বাভাবিক প্রক্রিয়া' বলে উল্লেখ করেছেন এবং সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুট অ্যারোস্পেসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে ইসরোর অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, মর্যাদাপূর্ণ মিশনের বিজ্ঞানীদের আকস্মিক পদত্যাগ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শূন্যপদ পূরণ করা গেলেও চন্দ্রযান ও স্প্যাডেক্সের মতো জটিল প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। ইসরোতে বর্তমানে ১ হাজার ৫০টির বেশি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।