ফেনীর সোনাগাজী এলাকার আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদন, পৃথক আপিল ও জেল আপিলের শুনানি অব্যাহত রয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় দিনের মতো এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন। আদালত আগামী রোববার এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত রেফারেন্স, আপিল এবং বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠনের নির্দেশ দেন। ওই বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। গঠিত বেঞ্চে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম, মোছা. রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। শুনানি শেষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানান, মামলার পেপারবুক থেকে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপনার মাধ্যমে মঙ্গলবার শুনানি শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, শুনানিতে পেপারবুক থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই মামলায় মোট ৮৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রোববার পরবর্তী শুনানিতে বাকি সাক্ষ্যগুলো উপস্থাপন করা হবে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তাঁর নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নুসরাত মামলা প্রত্যাহার না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করে। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নুসরাত হত্যা মামলার রায় ও নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। একইসঙ্গে আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন, যার শুনানি অগ্রাধিকার বেঞ্চে তৃতীয় দিনে এসে পৌঁছেছে।