কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘স্টেডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ১১ হাজার ২০০ পিস, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট পার্সেলে ইয়াবার চালান রয়েছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা অভিযান পরিচালনা করে। কার্যালয়ের স্টোররুমে রাখা একটি ব্লুটুথ স্পিকার খুলে দেখা যায়, এর ভেতরের যন্ত্রাংশ সরিয়ে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ছয়টি প্যাকেট রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই ওই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পার্সেলটি আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে টেকনাফে এসেছিল। তবে ‘পণ্যটি সঠিক নয়’ উল্লেখ করে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক যুবক সেটি আবার নারায়ণগঞ্জে ফেরত পাঠানোর জন্য কুরিয়ার সার্ভিসে জমা দেন। পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. জামাল। তিনি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় তার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা ইয়াবা ও অন্যান্য আলামত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, মিয়ানমান থেকে চোরাই পথে আনা ইয়াবা বিভিন্ন কৌশলে টেকনাফ হয়ে দেশের নানা স্থানে পাচার করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে মাদক, চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী এলাকার অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ইয়াবা পাচারের এই ঘটনায় জড়িত মো. জামালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।




