নিউ জার্সিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিফার টিকিট পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল। ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজের প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার। টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই ফিফার আয় এতটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিফা সদস্যদেশগুলিকে জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ থেকে তারা ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা—একটি অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়নি, তবে খুব শিগগিরই তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত আয়ের বড় অংশ এসেছে আতিথেয়তা ও টিকিট বিক্রি, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের সেকেন্ডারি টিকিটের বাজার থেকে। সেকেন্ডারি বাজারে টিকিট কেনা-বেচার সময় ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিয়েছে। টিকিটের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে কমিশন থেকে ফিফার অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় অংশ জমেছে। এই আর্থিক সাফল্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে নানা বিতর্কের মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে দেখানো লাল কার্ড স্থগিত করার ঘটনায় ফিফা ব্যাপক সমালোচিত হয়। অনেকের অভিযোগ ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা। যদিও সংস্থাটি দাবি করে, শৃঙ্খলা কমিটি স্বাধীনভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে। তবে আগামী মার্চে নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ইতিমধ্যে ২০০টির বেশি সদস্যসংস্থার সমর্থন পেয়েছেন। বিশাল অতিরিক্ত আয়ের কারণে অনেক সদস্যসংস্থা প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখানো থেকে বিরত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপের বিপুল আর্থিক সাফল্যের কারণে ভবিষ্যতে আবার সেখানে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আবার যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে। শুক্রবার এক সংবর্ধনায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী। তাঁর ভাষায়, ‘আপনারা আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিন, তবে কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ দিন।’ এ ছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ থেকে অতিরিক্ত আয়ের সুফল সদস্যদেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোও পাবে। তবে অর্থ বণ্টনের চূড়ান্ত কাঠামো এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।