দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে সরকার থেকে সরকার পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তির আওতায় পাঁচ দেশের ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ২৫ হাজার টন বিভিন্ন গ্রেডের প্রক্রিয়াজাত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্ব বাজেটে বহন করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, তেল সরবরাহ করবে থাইল্যান্ডের ওকিউটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং ভারতের আইওসিএল। মোট ১৫ লাখ ২৫ হাজার টনের মধ্যে ৯ লাখ ১৫ হাজার টন গ্যাস অয়েল, ২ লাখ ৮০ হাজার টন জেট এ-ওয়ান, ২ লাখ টন ফার্নেস অয়েল, ১ লাখ টন গ্যাসোলিন-৯৫ (আনলোডেড) এবং ৩০ হাজার টন মেরিন ফুয়েল রয়েছে। প্রতিটি জ্বালানির জন্য নির্ধারিত প্রিমিয়ামও জানানো হয়েছে—গ্যাস অয়েলে প্রতি ব্যারেলে ৯.৫০ ডলার, জেট এ-ওয়ানে ১০.১৫ ডলার, গ্যাসোলিন-৯৫-এ ৮.৪৯ ডলার, ফার্নেস অয়েলে প্রতি টনে ৬৬ ডলার এবং মেরিন ফুয়েলে প্রতি টনে ৮৫ ডলার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে একই ধরনের জিটুজি চুক্তির আওতায় ১২ লাখ ৪০ হাজার টন তেল আমদানি করা হয়েছিল। জুলাই-ডিসেম্বরের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় এবার আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টন করা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণে ১২৩ কোটি টাকা ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা স্থাপনে ২১২ কোটি টাকা, এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে ৭ কোটি টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। কুমিল্লায় ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার সার সংরক্ষণাগার নির্মাণে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বগুড়া জেলায় ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ‘সহনশীল অবকাঠামোর মাধ্যমে অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাস’ শীর্ষক প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে যৌথ উদ্যোগ ‘দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ ও ‘আহাদ বিল্ডার্স, ঢাকা’-কে ১২৬ কোটি টাকায় কাজ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১২ মার্চ একনেক অনুমোদন দেয় এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।