বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল 'লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস', যার অর্থ 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার'। মালভিনাস হলো দক্ষিণ আটলান্টিকের সেই দ্বীপপুঞ্জের স্প্যানিশ নাম যা ব্রিটিশরা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচালনা করে এবং আর্জেন্টিনা নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ড দাবি করে।
ঘটনার জেরে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির নিয়মানুযায়ী রাজনৈতিক প্রতিবাদ নিষিদ্ধ, আর এই ব্যানার সেই নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। একইসঙ্গে, ম্যাচ পরবর্তী সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
দোষী প্রমাণিত হলে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা, তিরস্কার বা ভবিষ্যতের ম্যাচে বিধিনিষেধের সম্মুখীন হতে পারে। অতীতের অনুরূপ ঘটনায় সাধারণত ক্রীড়া শাস্তির পরিবর্তে জরিমানা দেওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে। ১৮৮৩ সাল থেকে দ্বীপটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা সরকার দ্বীপটি দখল করে নেয়, যা ফকল্যান্ড যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ ব্রিটিশ সেনা ও তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যুদ্ধে পরাজিত হলেও আর্জেন্টিনা দ্বীপের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে এবং ১৯৯৪ সালে সংবিধান সংশোধন করে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। দ্বীপবাসীরা ১৯৮৬ ও ২০১৩ সালে দুটি গণভোটে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপুল ভোট দিয়েছে।
ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়মেও খেলোয়াড়দের সরঞ্জামে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২০১৪ সালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একই লেখা ব্যানারের সামনে পোজ দেওয়ায় ফিফা তাদের ২০ হাজার পাউন্ড (২৭ হাজার ডলার) জরিমানা করেছিল। সেবার ফিফা বলেছিল, এটি 'রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড' ও দলের অসদাচরণের নিয়ম ভঙ্গ।
এদিকে, আর্জেন্টিনার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল সামাজিক মাধ্যমে ১৯৮২ সালে দ্বীপে আর্জেন্টাইন সেনাদের অবতরণের একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, 'এটি আরেকটি ম্যাচ ছিল না।' আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার! তারা আমাদের স্টেডিয়ামে নিয়ে আসতে নিষেধ করেছিল, কিন্তু ভুলে গিয়েছিল যে আমরা সেটা রক্তে ও হৃদয়ে ধারণ করি।'



