আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ ঘিরে অন্য রকম এক আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, কারণ এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের মধ্যে দেখা হবে। অথচ ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্স রীতিমতো ভয় জাগানিয়া। গত ১৫ বছরে ৩৫ ম্যাচে তিনি ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ২৭ গোল করেছেন।
২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই রাতটি এখনও স্মরণীয় হয়ে আছে, যখন বার্সেলোনার জার্সিতে আর্সেনালের বিপক্ষে একাই চার গোল করেছিলেন মেসি। ম্যাচ শেষে আর্সেনালের তৎকালীন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার তাঁকে ভিডিও গেমের চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, ‘প্রতিপক্ষের প্রতিটি ভুলের সুযোগ নিতে জানে সে।’
এত দিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না খেলার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। ২০০৫ সালে জেনেভায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের প্রীতি ম্যাচটি মেসি খেলতে পারেননি। তার ঠিক তিন মাস আগে হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখেন তিনি, যার ফলে নিষেধাজ্ঞায় পড়েন। অন্যদিকে, ২০০২ বিশ্বকাপের পর আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দেখা হয়নি দুই দলের। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচির পরিবর্তন এবং উয়েফা নেশনস লিগ চালু হওয়ার কারণে এত দিন দেখা হয়নি। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা নিজেদের মহাদেশীয় দল ও মধ্যপ্রাচ্য বা উত্তর আমেরিকার মতো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক অঞ্চলেই বেশি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহী।
একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার ফি নেয় বলে জানা গেছে, যদিও মেসির জন্য আলাদা কোনো ফি উল্লেখ থাকে না। তবে দলে তাঁর উপস্থিতির কারণেই এত চড়া মূল্য আদায় করা হয়। চলতি বছরের মার্চে মায়ামির একটি আদালতে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের মামলায় এই চড়া মূল্যের কথা উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচে মেসিকে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর কথা থাকলেও তিনি পরদিন ইন্টার মায়ামির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কারণে খেলেননি। তবে এএফএ নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে।
এরই মাঝে এএফএ-র বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই। সম্ভাব্য ব্যাংক লেনদেনে কোটি কোটি ডলারের সূত্র ধরে এই তদন্ত। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনের খবর অনুযায়ী, ফ্লোরিডাসহ অন্যান্য অঞ্চলের ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে ৩০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ আছে। এএফএ-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শুরুর অর্থ দোষী সাব্যস্ত নয়।
তবে আপাতত সবার নজর সেমিফাইনাল ম্যাচের দিকে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এ বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট করে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দল তাদের ক্ষমতার ওপর আস্থাশীল এবং তারা বিশ্বাস করে, মেসিকে কৌশলে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ ফাইনালে ওঠা সম্ভব। টিকিটের বাজার এবং ভ্রমণের ব্যবস্থাপনা যেন এই ম্যাচের আগে উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


