বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল পর্বে এসে পড়েছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের স্টেডিয়ামটি সাক্ষী হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় পুলিশ। স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৭৫ হাজার। কিন্তু গ্যালারিতে দুই প্রতিপক্ষের সমর্থকদের আলাদা করে ফেলা একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ ফিফার নীতি অনুযায়ী সাধারণ কোটায় কেনা টিকিটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকেরাও একসঙ্গে বসতে পারেন। শুধু ফুটবল ফেডারেশনের বরাদ্দ টিকিটের ক্ষেত্রেই আসন পৃথকীকরণের সুযোগ আছে।

নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার অন্যতম কারণ হলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস। ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ঘটনা এখনও দুই পক্ষের সমর্থকদের মনে তাজা। গ্যালারিতে এসব প্রসঙ্গ তুলে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে একাধিক ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে গান গাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে ফিফা এ পর্যন্ত সেই ঘটনায় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এসব প্রেক্ষাপটে উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে, যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সব মিলিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান বিশ্বকাপে ইংলিশ সমর্থকদের আচরণ এ পর্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে। তবে গত শনিবার রাতে মায়ামিতে চার ইংলিশ সমর্থককে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে একজন বৈধ টিকিট ছাড়া স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশিং ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ফলে ম্যাচটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শেষ হবে বলে প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।

আটলান্টা স্টেডিয়ামটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ফলে ম্যাচের আগে স্টেডিয়াম সংলগ্ন পানশালাগুলোতে দুই দলের সমর্থকদের ভিড় জমানোর সম্ভাবনা আছে। আগের রাউন্ডে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকদেরই আধিপত্য ছিল। কিন্তু সেমিফাইনালের পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে ফ্লোরিডায় বিপুল সংখ্যক আর্জেন্টাইন প্রবাসী বাস করেন। তাদের অনেকেই আটলান্টায় গিয়ে ম্যাচ দেখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য থেকে অনেক ফুটবলপ্রেমী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত ইংলিশ প্রবাসীরাও জর্জিয়ায় জড়ো হবেন। ফলে গ্যালারিতে ৫০-৫০ অনুপাতে সমর্থক থাকবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

সব মিলিয়ে ম্যাচটি শুধু ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ। আটলান্টা পুলিশ পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়।