দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ২২ সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও স্থান পেয়েছেন। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যবসা সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায়ও এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সরকার এই টাস্কফোর্স গঠন করল বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই টাস্কফোর্সের সাত ধরনের কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কাজ হলো বাণিজ্যের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ কমানোর পথনকশা তৈরি এবং তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। লাইসেন্স অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সেবায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে নির্দেশনা দেওয়াও টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডোতে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া; আন্তমন্ত্রণালয় ও আন্তসংস্থার মধ্যে জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করা; আইন, বিধি, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক আদেশ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা; বিনিয়োগকারী ও সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, অনিয়ম ও বিলম্ব তদারকি করে টাস্কফোর্সের নিকট উপস্থাপন করা; এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রগতি পর্যালোচনা করার দায়িত্বও এই টাস্কফোর্সের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
টাস্কফোর্সে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীরা রয়েছেন। ব্যবসায়ী সমাজের শীর্ষ সংগঠনগুলোর মধ্যে এফবিসিসিআই, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), ঢাকা চেম্বার ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতিরাও টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অর্থ বিভাগ এই টাস্কফোর্সের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে।




